আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চাইলে মৃত্যু মুখে থেকে নিজেকে বাঁচাতেই পারতেন। কিন্তু মৃত্যু মুখে দাঁড়িয়ে ৮০ ভাগ ঝলসানো শরীর নিয়ে ২০ জন শিশুকে বাঁচালেন শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী। কিন্তু নিজে আর বাঁচলেন না। শিশুদের বাঁচিয়ে নিজে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
এই শিক্ষিকা রোজ স্কুল ছুটির পর শিশুদের হাত ধরে পৌঁছে দিতেন স্কুলের গেটে অপেক্ষারত পরিবারের কাছে। সোমবার বিমান দুর্ঘটনার পরে আগুন দেখেই ছুটে এসেছিলেন আগুনে আটকে থাকা শিশুদের উদ্ধারে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী। ২০ জন শিশুকে একা হাতেই বাঁচিয়ে আনেন। তারফলে শরীর অধিকাংশই পুড়ে যায় তাঁর। সেদিকে খেয়াল নেই, তাঁরা কাছে সবথেকে বড় শিশুরা রক্ষা পেয়েছে, এটাই রক্ষে।
শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু হল শিক্ষিকার। সোমবার রাতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মৃত্যু হয় তাঁর।জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষিকার শরীরের বেশিরভাগটাই পুড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাঁকে আইসিআউতে রেখেই চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ২০ শিশুকে বাঁচিয়ে মৃত্যুর কোল ঢলে পড়লেই নিজেই। জানা গিয়েছে, শিশুদের উদ্ধার করতে পারলেও, আগুনের তাপে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি।
ঢাকার বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যায় ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানানো হয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭। আহতের সংখ্যা প্রায় ১৭০। বিভিন্ন হাসপাতালে আরও বেশ কেয়কজন ভর্তি রয়েছেন অনেকর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃত্যু এখানেই থামেনি। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।