নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ভেঙে প্রাণ হারিয়েছেন পাইলট সহ ১৯ জন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও ১৬৪ জন। ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সন্ধেয় মাইক্রো ব্লগিং সাইট ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকায় এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত ও মর্মাহত। যারা মারা গিয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই তরুণ শিক্ষার্থী। আমাদের হৃদয় শোকাহত পরিবারের প্রতি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভারত বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করছে এবং সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত।’
Deeply shocked and saddened at the loss of lives, many of them young students, in a tragic air crash in Dhaka. Our hearts go out to the bereaved families. We pray for the swift recovery of those injured. India stands in solidarity with Bangladesh and is ready to extend all…
— Narendra Modi (@narendramodi) July 21, 2025
এদিন ঢাকার বায়ুসেনার ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আকাশে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। ওড়ার খানিকবাদেই বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বেলা ১টা ৬ মিনিটে এফ-৭ বিজিআই বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার হল নামের একটি ভবনের ক্যান্টিনের ছাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল, বিজিবি এবং সেনার উদ্ধারকারীরা। বিমানের চালক তৌকিরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আকাশপথে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার সেনা হাসপাতালে। যদিও তাতে লাভ হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তরুণ পাইলট। বাকিদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট-সহ একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতরের তরফে জানানো হয়, ‘বিমান দুর্ঘটনায় পাইলট সহ ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬৪ জন।’
আইএসপিআরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৮ জন, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ৭০ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৪ জন, উত্তরা লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে ১১ জন ও উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ৬০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।’ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আগামিকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রূীয় শোকপালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।