নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং জনমতের চাপে দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া থেকে পিছু হঠল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪’ খসড়া প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রকের তরফে পাঠানো খসড়ায় সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা বাদ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। অর্থাৎ গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার দলকে কোনও শাস্তি দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়নি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগের আক্রমণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে ২৫০টির বেশি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারও শুরু হয়েছে দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী ও তার চ্যালাচামুণ্ডাদের। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-আদিলুর রহমানের মতো পাকিস্তানপন্থীরা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন করে গণহত্যায় জড়িত দলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করারও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
যদিও শত্রু দল হলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিরোধিতায় সরব হয়েছিল বিএনপি। পাশাপাশি আরও একাধিক দল ওই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল। সাধারণ মানুষও সরব হন। ফলে চাপে পড়ে যায় অন্তর্বর্তী সরকার। এদিন সচিবালয়ে বৈঠকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪’-এর খসড়া প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বসেছিল উপদেষ্টা পরিষদ। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই একাধিক উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হাতে ন্যস্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের বক্তব্য, ভবিষ্যতে দেশে কোনও নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে নিজেদের মোসাহেবদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক পদে বসিয়ে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক খতমের ক্ষেত্রে এই সুযোগের অপব্যবহার করতে পারে। তার পরেই খসড়ায় সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা বাদ দেওয়া হয়। ফলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আরও এক কৌশল ভেস্তে গেল।