নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ স্বাধীন করার অপরাধে শনিবার (১০ মে) স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে রাজাকার মোল্লা ইউনূসের সরকার। এর পরে পাকিস্তানের দালাল সরকারের লক্ষ্য যে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক দলগুলিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত করা, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইউনূসের নেতৃত্বাধীন রাজাকার পরিষদের সদস্য তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা মাহফুজ আলম।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরে গভীর রাতেই সমাজমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্ট করেছেন তিনি। ‘দুটি কথা’ শিরোনামে ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মুজিববাদী বামদের ক্ষমা নাই। লীগের গুম-খুন আর শাপলায়, মোদি বিরোধী আন্দোলনে হত্যাযজ্ঞের মস্তিস্ক এরা। এরা থার্টি সিক্সথ ডিভিশন। জুলাইয়ের সময়ে এরা নিকৃষ্ট দালালি করেও এখন বহাল তবিয়তে আছে। আজ পর্যন্ত মুজিববাদী বামেরা কালচারালি ও ইন্টেলেকচুয়ালি জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে যাচ্ছে। দেশে বসে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে এরা চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। লীগের এসকল বিটিম-ও শিগগির্ই পরাজিত হবে। অন্য কারো কাঁধে ভর করে লাভ নেই।’
কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি), ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) সহ বাংলাদেশের একাধিক বামপন্থী দল বরাবরই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াত ইসলামী এবং একাত্তরের পাক গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বরাবরই সোচ্চার। পাকিস্তানপন্থীদের কট্টর সমালোচক হিসাবেই পরিচিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলাদশে পাকিস্তানি শাসনব্য্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষ্যভৃত্য মোল্লা ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন রাজাকার পরিষদের। রাজনীতির ময়দানে বামপন্থীরা থাকলে ওই এজেন্ডা কার্যকর করা সম্ভব নয়। তাই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পর বামপন্থীদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং যাবতীয় অপকর্মের হোতা মাহফুজ আলমকে দিয়ে বামপন্থীদের নিষিদ্ধের দবি তুলিয়েছেন।