নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনার গদি ওল্টানোর পরে হিন্দুদের উপরে যে নির্যাতন শুরু হয়েছে, তা থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরের মণিরামপুরের হিন্দু ব্যবসায়ী পলাশ ঘোষের বাড়িতে হামলা চালায় জামাত সন্ত্রাসীরা। ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পরে পলাশবাবুর স্কুল পড়ুয়া ছেলে পিয়াসকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার হিন্দুরা।
গত সোমবার সেনা বিদ্রোহের মুখে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। আর তার পরেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দুদের উপরে নারকীয় অত্যাচার। হাসিনা জমানার খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার থেকে শুরু করে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বসু-কেউই হামলার হাত থেকে বাঁচেননি। হিন্দুদের উপরে হামলার তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন যশোরের মণিরামপুরের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মণিরামপুরের বাসিন্দা পলাশ ঘোষের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন উপজেলার শাহপুরের বাসিন্দা আবুল হাসান। সুদে-আসলে তা বেড়ে হয় পাঁচ লক্ষ টাকা। ওই টাকা পরিশোধ হিসাবে পলাশকে ৫ লাখ টাকার একটা চেক দেন আবুল হাসান। ওই চিক বাউন্স হলে মামলা দায়ের করেন পলাশবাবু। ওই মামলায় আবুল হাসানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের সাজা দেয় আদালত। বেশ কিছুদিন জেলের ঘানি টানতে হয় আবুল হাসনকে। পরে আদালতের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে জামিন পান তিনি।
শেখ হাসিনার গদি ওল্টাতেই বৃহস্পতিবার বদলা নিতে সদলবলে পলাশের বাড়ি চড়াও হন জামাত নেতা আবুল হাসান। বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালানো হয়। তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পলাশের নাবালক ছেলে পিয়াসকে। শুক্রবার হামলার ঘটনা বলতে গিয়ে ভয়ার্ত কণ্ঠে পলাশ বলেন, ‘মামলাকারীরা আমার স্ত্রী ও মায়ের গলা থেকে সোনার গয়না, টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। টাকা না পেয়ে তাঁরা জোর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেন। পরে তাঁরা আমার মোটরবাইক এবং আমার ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে চলে যায়।’