নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বর্ষবিদায়ের দিনেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করছে নব্য রাজাকার বাহিনীর নয়া রাজনৈতিক দল। ওই দিন বিকেল চারটের সময়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পাক গুপ্তচর বাহিনী আইএসআইয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশেষ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘নব্য রাজাকারদের’ সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ওই সমাবেশ থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহত করতে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য দাবি জানানো হবে। সেই সঙ্গে নয়া রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা হবে বলে শনিবার রাতে জানিয়েছেন নব্য রাজাকার বাহিনীর মুখ্য আহ্বায়ক তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর কথায়, ’৩১ ডিসেম্বর দেশে মুক্তিযুদ্ধকে কবর দেওয়ার ঘোষণা করা হবে।’
বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে না যায় তার জন্য গত সাড়ে চার মাস ধরে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। গত সপ্তাহেই ঢাকায় পৌঁছেছেন পাক সেনাবাহিনীর দুই প্রাক্তন আধিকারিক তথা আইএসআইয়ের ডিপ অ্যাসেট জাভেদ মেহেদি এবং শাহিদ মেহেমুদ। গত মঙ্গলবার থেকেই দফায় দফায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস, আদিলুর রহমান, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দুজনে। অন্তর্বর্তী নির্বাচনের জন্য জানুয়ারি মাসে খালেদা জিয়ার দল রাজপথে নেম আন্দোলন করতে পারে এমন আভাস পেয়েই তা ভেস্তে দিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই মতো শনিবার সন্ধে থেকেই আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফে ৩১ ডিসেম্বর শহিদ মিনারে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আচমকাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশের ডাককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়। ৩১ ডিসেম্বর কী হতে চলেছ, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে যায়। তবে রাতের দিকেই সেই জল্পনায় ইতি পড়ে। বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় নিজেদের পোষ্যভৃত্যদের বসিয়ে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশকে মৌলবাদী ও জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে গঠন করা যে আইএসআইয়ের পরিকল্পনা ছিল, তা অনেক আগেই প্রকাশিত হয়েছিল ‘এই মুহুর্তে’ অনলাইনে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, নব্য রাজাকার বাহিনী দিয়ে ‘জনশক্তি’ নামে নয়া এক দল খুলতে চাইছে পাক চররা। ওই খবর প্রকাশের পরেই চাপে পড়ে গিয়ে জঙ্গি ও মৌলবাদী সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটির তরফে জানানো হয়, নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের অভিপ্রায় নেই। কিন্তু গত ৭২ ঘন্টায় পরিস্থিতি বদলেছে। আওয়ামী লীগের মতো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তিকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের পরে এবার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বিএনপিকে মাইনাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজ জামায়াত কিংবা অন্য কোনও দলকে দিয়ে হবে না বুঝতে পেরেই নতুন দল গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মোল্লা ইউনূসকে দিয়ে বিচারব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনের ৮০ শতাংশ পদে রাজাকারপন্থীদের নিয়োগ বা পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ পদে নয়া দলের সমর্থকদের বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।