নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে কোটা বিরোধী আন্দোলন।শুক্রবার রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের সঙ্গে সংরক্ষণ বিরোধী পড়ুযাদের দিনভর সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তার মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক। এ নিয়ে চলতি আন্দোলনে কমপক্ষে ১০৫ জন প্রাণ হারালেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার পরেই রাতে দেশজুড়ে কার্ফু জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে সেনা মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কার্ফু জারি ও সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।সারা দেশের যে যে জায়গায় সংঘাত সহিংসতার শঙ্কা রয়েছে সে সব জায়গায় বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তা করবে সেনাবাহিনী। কার্ফু জারি ও সেনা মোতায়েনের ফলে বিক্ষোভকে প্রশমিত করা যাবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। কেন মঙ্গলবার সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠার পরে এমন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল না, তা নিয়ে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব কিংবা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন ঘিরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর-সহ একাধিক এলাকা। গাজীপুরে বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হন প্রাক্তন পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। যদিও তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আতিকুর রহমান নিহত হয়েছেন। নরসিংদীতে হামলা চালিয়ে জেলা কারাগারের দখল নেন বিক্ষোভকারীরা। ওই সুযোগে কয়েকশো বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদ কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়।