নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে মঙ্গলবার পুলিশ ও শাসকদল আওয়ামী লীগের গুন্ডাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ছয় জন। বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচারবিভাগীয় তদন্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তাঁর ঘোষণাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব। উল্টে আগামিকাল বৃহস্পতিবার গোটা দেশ স্তব্ধ (কমপ্লিট শাটডাউন) করার ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন ভাঙতে গতকাল মঙ্গলবারই পুলিশ এবং নিজের দলের কুখ্যাত গুন্ডাদের লেলিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ ও গুন্ডাদের বেনজির তান্ডবে রক্তে ভেসে গিয়েছিল রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর-সহ একাধিক শহরের রাজপথ। গুন্ডা ও পুলিশ লেলিয়ে আন্দোলনকারীদের চুপ করাতে না পারায় মঙ্গলবার রাতেই সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকারের শীর্ষ মহল। আর ওই সিদ্ধান্ত জানার পরে আরও ফুঁসে ওঠে ছাত্র সমাজ। সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের নৃশংসভাবে খুন করার প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনরা। আর তাতে চাপে পড়ে সুর নরম করে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু তাঁর ওই সন্ধি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের খানিক বাদেই সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীদের তরফে বৃহস্পতিবার দেশ স্তব্ধ করে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা এবং খুনিদের বিচারের দাবিতে আগামিকাল ১৮ জুলাই সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হচ্ছে। শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনও প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স বাদে সড়কে কোনও গাড়ি চলবে না। কর্মসূচি সফল করতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের রাস্তায় নামারও আর্জি জানানো হয়েছে।