নিজস্ব প্রতিনিধি, শরীয়তপুর: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস জমানায় বাংলাদেশে মৌলবাদী এবং জঙ্গিরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, ফের তার নজির মিলল। এবার শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ওসি আল-আমিনকে খুন করে তাঁর নিথর দেহ জানালায় ঝুলিয়ে দিল জামায়াত জঙ্গিরা। যদিও জঙ্গিদের আড়াল করতে ওই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য ওই হাস্যকর তত্ত্ব মানতে নারাজ। থানা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, দেশে রাজনৈতিক পালাবদল হওয়ার পরে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর জাজিরা থানার ওসি হিসাবে দায়িত্ব নেন বরিশালের মুলাদীর বাসিন্দা আল আমিন। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আল আমিনের সঙ্গে শরীয়তপুরের জামায়াত আমীর মাওলানা আবদুর রবের সঙ্গে সঙ্ঘাত চলছিল। আওয়ামী লীগ নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করতে রাজি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) থানায় ঢুকে ওসি আল আমিনকে প্রাণে মারার হুমকি দেন রব ও তার সঙ্গীরা। ওই হুমকির ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই এদিন থানার দোতলায় নিজের কক্ষ থেকেই উদ্ধার হয় ওসির ঝুলন্ত দেহ। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রথমে আল-আমিনের আত্মহত্যার গল্প ফাঁদা হয়েছিল।
কিন্তু ছয় ফুটের বেশি উচ্চতার ওসি কীভাবে জানলায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, জামায়াত জঙ্গিরাই খুন করেছেন ওসিকে। ঘটনার খবর পেয়েই জাজিরা থানায় ছুটে যান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ সুপারসহ পুলিশ লাইন্সের চিকিৎসক। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু থানায় কর্মরত পুলিশের অন্যান্য কর্মী এবং আধিকারিকদের চাপে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা থেকে সিআইডির ফরেনসিক টিম পৌঁছনোর পরে ময়নাতদন্তের কাজ শুরু হয়।