নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে থাকা জামায়াতপন্থী ও পাকিস্তান প্রেমী সেনা আধিকারিকদের সতর্ক করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা সেনা সদর দফতরে বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে জামায়াতপন্থী সেনা আধিকারিকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনার ভিতরের খবর একদল সেনা আধিকারিক ফাঁস করছেন। ওই মীরজাফর সেনা আধিকারিকদের চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে। যাঁরা ভাবছেন অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শীর্ষ পদে বসে সেনাকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কাজে ব্যবহার করবেন, তাদের স্পষ্ট বলছি, ওই ধরনের কল্পনা মাথাতেও আনবেন না। ওই স্বপ্ন কোনও দিনও সত্যি হবে না।’ একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁদের সেনানিবাসে ঢুকতে না দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান।
রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই আড়াআড়ি বিভাজিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একদিকে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাপন্থী আধিকারিকরা। অন্যদিকে, পাকিস্তানপ্রেমী জামায়াতপন্থী আধিকারিকরা। এক গোষ্ঠীর নেতৃত্বে খোদ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। অন্য গোষ্ঠীর নেতৃত্বে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজুর রহমান। যিনি গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার পতনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার (ডিজিএফআই) প্রধানের পদ পন। তার পরে আচমকাই পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল থেকে লেফটেন্যন্ট জেনারেল হন। সেই সঙ্গে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলের (কিউএমজি) দায়িত্ব পান।
গত মাসখানেক ধরেই অবশ্য ফাইজুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট চর্চা শুরু হয়েছে সেনবাহিনীর অন্দরে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই প্রাক্তন প্রধান নুরুদ্দীন খান ও ইকবাল করিম ভুঁইয়া সহ শেখ হাসিনা জমানায় বিভিন্ন অপরাধে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসাবে পরিচিত বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ আসা আইএসআই শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠকে বসেন তিনি। পাশাপাশি প্যারিস, আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জামায়াত ইসলামী ঘনিষ্ঠ অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট হিসাবে আখ্যা দিয়ে লাগাতার প্রচার চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরেই সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যে কোনও সময়ে সেনা বিদ্রোহ ঘটতে পারে বলে প্রচার চলছে। সেনাপ্রধানের দফতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি কেন এখনও টাঙানো রয়েছে সেই প্রশ্ন তুলে ওয়াকারকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসাবে আখ্যা দিয়ে প্রচার চলছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকার সেনা সদর দফতরে বিশেষ বৈঠক ডেকেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামান। সারা দেশের সেনা কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে মুখ খোলেন সেনাপ্রধান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সুশৃঙ্খলবদ্ধ বাহিনী হিসাবে আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন সেনাপ্রধান আছি, ততদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গায়ে কোনও কালি লাগতে দেব না। সেনাবাহিনীর সুনাম নষ্ট হয় এমন কোনও অপকর্ম কাজ করতে দেওয়া হবে না।’