নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা দাবি জানালেও নিষিদ্ধ হচ্ছে না আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবারই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের হওয়া মামলার সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। আর বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের পূর্বতন শাসকদল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে না।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাদের অবদান ছিল। কিন্তু গেল ১৫ বছরে তারা যা করেছে, সেটা তাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যায় না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বর্বরতম ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। ওই কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তিগত দায় থাকতে পারে, নেতাদের সামষ্টিক দায় থাকতে পারে, কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি না।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে গত ১ অগস্ট মৌলবাদী সংগঠন জামায়াত ইসলামী ও সশস্ত্র ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনা সরকার। ২৮ দিনের মাথায় এদিন সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যদিও জামায়াত ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মের কোনও যোগসাজশ পাওয়া যায়নি। তাই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।