নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ফের একবার তদারকি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার মতবিরোধ প্রকাশ্যে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অশান্তি রুখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মোল্লা ইউনূস সরকার। ঠিক হয়েছিল, ভোটের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সাতটি প্রবেশপথে সেনাসদস্যরা থাকবেন। ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো ঘিরে রাখবেন। বহিরাগতরা যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে তার জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ অগস্ট) সেনার জনসংযোগ দফতরের (আইএসপিআর) তরফে এক প্রেস বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ভোটে জড়াচ্ছে না সেনাবাহিনী। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন না সেনা সদস্যরা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে এবার বহুমুখী লড়াই হচ্ছে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত ইসলামীর সশস্ত্র শাখা সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির, রাজাকারপন্থী ছাত্র সংগঠন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটের ৩৬ ঘন্টা আগে প্রচার শেষ হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে। তবে ছাত্রী আবাসে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার চালানোর সুযোগ থাকবে।ভোটের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ‘প্রচারের সময়ে কোনও প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধ, পারিবারিক বা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কাউকে অপদস্থ করার চেষ্টা করেন, তবে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা আইন অনুযায়ী দণ্ডিত করা হবে।’
গত মঙ্গলবারই (২৬ অগস্ট) ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন আধিকারিক জসিমউদ্দিন জানিয়েছিলেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভোট ঘিরে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।’ তার ওই ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। এদিন সেনাবাহিনীর তরফে ছাত্র ভোটে দায়িত্ব পালন না করার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। আইএসপিআরের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত নানা খবর প্রচারিত হচ্ছে, যা সেনাবাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এসব নির্বাচনসমূহে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও দায়িত্বে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মনে করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনসমূহ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।’