নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ইস্তফা না দিলে করুণ পরিণতির হুমকি দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা তথা জামায়েত ইসলামী ঘনিষ্ঠ ছাত্র নেতা আসিফ মাহমুদ। শনিবার সকালে তাঁর ওই হুমকির পরেই সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ঘেরাও করেছিল সশস্ত্র কোটা আন্দোলনকারীরা। সেই চাপের মুখে পড়ে দুপুরেই ইস্তফা দিয়েছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আর বিকালেই প্রাণ বাঁচাতে ইস্তফা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি। ওই পাঁচ বিচারপতি হলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকবারই ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু হুমকি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ইস্তফায় বাধ্য করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। অনেক প্রবীণ আইনজীবীই প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কী বাংলাদেশে তালিবানি শাসন শুরু হল?
অন্যদিকে দুপুরে কোটা আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে করুণ পরিণতির হুমকি পাওয়ার পরেই সসম্মানে ইস্তফা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল। আর তাঁর ইস্তফার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে বিএনপি’র কট্টর সমর্থক হিসাবে পরিচিত বিচারপতি মোহাম্মদ আশফাকুল ইসলসাম। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে ২০০৩ সালের ২৭ অগস্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হন তিনি।
নয়া বিচারপতি যেমন বিএনপির কট্টর সমর্থক, তেমনই তাঁর বাবা একেএম নুরুল ইসলাম ছিলেন স্বৈরাচারী শাসক হুসেন মহম্মদ এরশাদের দোসর। ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের আইন মন্ত্রী ছিলেন। ২৪ মার্চ ১৯৮৬ থেকে ২৫ মে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি এরশাদের অধীনে ৩০ নভেম্বর ১৯৮৬ থেকে ৩০ অগস্ট ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।