নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সেনা বিদ্রোহে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটার পরেই গোটা দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দু নিধন যজ্ঞ। হিন্দুদের বাড়ি-ঘর লুঠের পাশাপাশি চলছে অগ্নিসংযোগ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও মন্দির ভাঙচুর। সেনাবাহিনীর একাংশের মদতে বিএনপি ও জামায়াত জঙ্গিরা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে দুষ্কর্ম। এবার নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল কয়েক হাজার হিন্দু। চার ঘন্টার বেশি সময ধরে চলে ওই অবরোধ। আজ শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।
এদিন জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে পৌঁছন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, ভক্ত সংঘ-সহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের কয়েক হাজার সদস্য। ভক্ত সংঘের তরফে শান্তিরঞ্জন মণ্ডল জানান, মূলত চার দফার ভিত্তিতেই এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ওই চার দফা হল- সংখ্যালঘু মন্ত্রক গঠন করতে হবে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংগটিত সব ধরনের হামলা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের জন্য ১০ শতাংশ সংসদীয় আসন বরাদ্দ করতে হবে।
শান্তিবাবু অভিযোগ করেন, ‘গোটা দেশ জুড়ে হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তা দেওয়ার মতো কেউ নেই। প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনেকে সীমান্তে গিয়ে বসে রয়েছেন। তাদের সম্মানের সঙ্গে বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আজ থেকে একটা হিন্দু বাড়ি, মন্দির যেন পাহারা দিতে না হয়। যেভাবে মসজিদ পাহারা দিতে হয় না, সেভাবে মন্দিরও যেন পাহারা দিতে না হয়।’