নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর: হাড়হিম করে দেওয়া ঘটনা ঘটল রাজস্থানের কারাউলি জেলায়। সেখানে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ৬০ বছর বয়সী স্বামীকে হত্যা করল ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী। হত্যার পর মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে ভরতপুর জেলার বায়ানা এলাকায় অবস্থিত একটি কুয়োর মধ্যে ফেলে দেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, হত্যালীলা সমাপ্ত করে স্ত্রী নিজেই থানায় গিয়ে স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি লেখান। এর উদ্দেশ্য ছিল একতাই, যাতে কারও সন্দেহ তার দিকে না পড়ে। পুলিশ ওই মহিলা এবং তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে।
এই ঘটনাটি করাউলির বালঘাট থানা এলাকার মুদিয়া গ্রামের। গত ২০ অগস্ট রাতে ৩০ বছর বয়সী কুসুম স্বামী ৬০ বছরের দেবী সহায়কে কোনও এক অজুহাতে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে যায়। কুসুমের প্রেমিক পিন্টু আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল। পিন্টু দেবী সহায়কে পেছন থেকে এসে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারপর কুসুম ও পিন্টু মিলে প্রৌঢ় দেবী সহায়ের দেহ ভরতপুর জেলার বায়ানা সদর থানা এলাকার ভিদাওয়ালি গ্রামের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে একটি কুয়োর মধ্যে ফেলে দেয়।
এরপর কুসুম থানায় গিয়ে দেবী সহায়য়ের নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশের কিন্তু সন্দেহ হয়। তারা কুসুমকেই নানারকম ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বারবার অসংলগ্ন উত্তর দিতে থাকে সে। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর একসময় পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে কুসুম। তার কাছ থেকে সব শুনে পুলিশ এবং এসডিআরএফ দল গিয়ে কুয়ো থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দেবী সহায়ের স্ত্রী কুসুম এবং তার প্রেমিক পিন্টু সহ কয়েকজন সঙ্গীকে গ্রেফতার করে।
বালঘাট থানার ইনচার্জ কমলেশ মীনা জানান, ২১ অগস্ট বিকেলে এক মহিলা তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার কথায় পুলিশ সন্দেহ হয়। তারপর মহিলার কল ডিটেলস বের করা হয়। তার থেকে জানা যায় যে কুসুম ঘন্টার পর ঘণ্টা ধরে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে কথা বলতেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা তার অপরাধ স্বীকার করে। এরপর পুলিশ অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারপর অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিলার স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।