নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাত পোহালেই কৌশিকী অমাবস্যা। ৫১ সতীপিঠের এক শক্তিপীঠ হওয়ায় তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে হবে বিশেষ আচার সহকারে পুজো। তার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। ২২ অগস্ট শুক্রবার কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথি। এই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই কারণেই মূলত ভক্তদের মধ্যে এই অমাবস্যার মাহাত্ম্য প্রচারিত।
তমলুকে অবস্থিত দেবী বর্গভীমা মন্দির। কথিত আছে দেবীর বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল এই মন্দিরে। স্বয়ং বিশ্বকর্মা এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন এমনও শোনা যায়। জনশ্রুতি, তমলুকের রাজা তাম্রধ্বজ প্রতিদিন শোল মাছ খেতেন । রাজ আদেশে সেই সময় রাজ পরিবারে প্রতিদিন জ্যান্ত শোল মাছ দিতে আসতেন এক দরিদ্র ধীবরপত্নী। সারাবছর কী ভাবে জ্যান্ত মাছের জোগান দেন ওই ধীবর পত্নী, এই প্রশ্ন জাগে রাজার মনে। সেকথা জিজ্ঞাসাও করেন। কিন্তু ধীবর পত্নী কোনও কথা বলেন না। শেষে রাজা ভয় দেখান। তাতেই ফাঁস হয়ে যায় গোপন কথা।
ধীবর পত্নী রাজাকে জানান, জঙ্গলে ঘেরা একটি কূপ থেকে জল ছিটিয়েই রোজ মরা শোলকে জ্যান্ত করে তিনি রাজ দরবারে হাজির করেন তিনি। ধীবর পত্নীর কথামতো ওই এলাকায় রাজা গিয়ে দেখতে পান উগ্রতারা রূপী দেবী বর্গভীমার মূর্তি। সেখানেই মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রাজা।
৫১ সতীপিঠের ১ পিঠ এই মন্দিরে কৌশিকী অমাবস্যা ঘিরে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। মন্দিরের পূজারী পুষ্পেন্দু চক্রবর্তী জানান আগামীকাল সকাল ১১: ৫৫ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে। সকালে হবে মায়ের নিত্য পুজো। নিত্যপুজো শেষে অমাবস্যা শুরু হলে হবে মায়ের অঙ্গরাগ। অঙ্গরাগ শেষে সপ্তপদ বিশিষ্ট ব্যঞ্জন ভোগ নিবেদন করা হবে মাকে। তারপর পুজো শেষে সন্ধ্যায় শুরু হবে বিশেষ যজ্ঞ।
প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান এই মন্দিরে। কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে শুক্রবারও প্রচুর ভক্তসমাগম যে হতে চলেছে তা বলা বাহুল্য। ভক্তদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে মন্দিরের সামনে বসেছে ২২টি সিসি ক্যামেরা। থাকবে নিরাপত্তারক্ষীরা। প্রতিদিনের মত ভক্তদের জন্যে থাকবে ভোগের ব্যবস্থা।