নিজস্ব প্রতিনিধি, তারাপীঠ: কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে ভক্তদের ঢল। শুক্রবার সকাল থেকে মন্দির চত্বরে উপচে পড়েছে ভক্তদের ভিড়। এই বিশেষ দিনে মায়ের কাছে পুজো দিয়ে পূণ্য অর্জন করতে আগ্রহী সকলেই। তারাপীঠের সবথেকে বড় উৎসব এই কৌশিকী অমাবস্যা। এই বিশেষ তিথি উপলক্ষে গোটা তারাপীঠকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ভক্তদের কথা মাথায় রেখে শুক্রবার সারারাত মন্দিরের দরজা খোলা থাকবে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর চারটে নাগাদ দেবীকে স্নান ও মঙ্গল আরতি করে গর্ভগৃহের খুলে দেওয়া হয়েছে। এর পরেই সেখানে ভিড় জমতে শুরু করেছে। ভক্তরা ফুলের ডালি সাজিয়ে মন্দির চত্বরে হাজির হয়েছেন। এদিনই দেবীর অঙ্গে কৌশিকী পূজা করা হবে। সন্ধ্যায় দেবীকে স্বর্ণাংকারে সাজিয়ে রাজ বেশ তৈরি করা হবে। কৌশিকী অমাবস্য উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এই বছরও ভিড় হয়েছে। এদিন প্রায় পাঁচ লক্ষের বেশি ভক্ত তারাপীঠে আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কৌশিকী অমাবস্যার দিনেই তন্ত্রসাধকরা তন্ত্রসাধনায় মেতে ওঠেন তারাপীঠ মহাশ্মশানে। সাধক বামা ক্ষ্যাপা মা তারার দর্শন সিদ্ধি লাভ করেছিলেন এই দিনেই।
অন্যদিকে কথিত আছে শুম্ভ নিশুম্ভুকে বধ করতে দেবীর নিজ দেহকোষ থেকে বের হয়ে এক দেবী মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এদিন ১১:৫৫ মিনিটে শুরু হবে অমাবস্যা তিথি। শেষ হবে শনিবার ১১:২৪ এ। মহা ধুমধাম করে মায়ের আরাধনা এ দিন তারাপীঠ মন্দিরে চলছে। স্নান ও মঙ্গলারতির পর সকালেই পাঁচ রকম মিষ্টি ফল দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়েছে মাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন রকম খাবারে সাজিয়ে মাকে এদিন ভোগ দেওয়া হয়। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা এবং রাত্রে দেবীকে ভোগ দেওয়া হয়। দুপুরে সাদা ভাত, পোলাও, ফ্রাইড রাইস সহ ১১ রকমের ভাজা, পোড়া শোল মাছ, পাঁচ রকমের মাছ ভাজা, চাটনি ও পায়েস রাখা থাকে ভোগে। সন্ধ্যেবেলা মাকে দেওয়া হয় লুচি, সুজি, ৫ রকমের ফল ,৫ রকমের মিষ্টি, ক্ষীর ও শীতল ভোগ। রাতে তারাপীঠে দেবীকে দেওয়া হয় খিচুড়ি, মাছ ভাজা ও বলির মাংস।। এই তিথিতে বিশেষ নিশিপুজোর আয়োজন করা হয়।