নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ছত্রখান বিরোধী শিবির ফের ঐক্যবদ্ধ। বৃহস্পতিবার (৭ অগস্ট) লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির দেওয়া নৈশভোজের আসরে ফের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্যবদ্ধের চিত্রই ধরা পড়ল। কংগ্রেস সহ দেশের ২৪ প্রধান বিরোধী দলের তরফে কমপক্ষে ৫০ নেতা ওই নৈশভোজের আসরে হাজির ছিলেন। উপস্থিত থাকা নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এনসিপির (এসসিপি)শরদ পওয়ার, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, সমাজবাদী সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, ডিএমকে নেতা টি আর বালু, সিপিএম নেতা এম এ বেবি, সিপিআই (এমএল) নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।
সূত্রের খবর, বৈঠকে ‘বিজেপি বান্ধব’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি বিরোধী দলগুলি যেখানে শক্তিশালী সেখানে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর নামে মহিলা ও মুসলিম ভোটারদের বেছে বেছে বাদ দেওয়ার যে কৌশল নিয়েছে কমিশন, তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করার পাশাপাশি সংসদের দুই কক্ষে যৌথভাবে প্রতিবাদ করবেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা। পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন সংগঠিত করা হবে। এদিন কর্নাটকে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে ‘অ্যাটম বোমা’ ফাটিয়েছেন রাহুল। আর তাতেই কার্যত দিশেহারা নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি। বেনজিরভাবে নির্বাচন কমিশনকে বাঁচাতে আসরে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠকে ওই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে রাহুল বলেন ‘আমি মৌচাকে ঢিল মেরেছি। শুধু কর্নাটক নয়, বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির সুবিধা করে দিতে কীভাবে সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ আমলাদের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পদে বসানো হচ্ছে সেই প্রমাণও খুব শিগগিরই হাজির করব।’
এদিনের বৈঠকে উপরাষ্ট্রপতি পদে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের তরফে প্রার্থী দাঁড় করানোর বিষয়েও ঐক্যমতে পৌঁছন বিভিন্ন দলের নেতারা। শাসক শিবির অর্থাৎ এনডিএ’র তরফ থেকে নির্বাচন এড়ানোর জন্য যদি বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা চালানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে কথাবার্তা চালানো হবে। কাকে ‘ইন্ডিয়া’র প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার জোটের সিনিয়র নেতাদের কাঁধেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নৈশভোজে হাজির ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা ফের জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সব দলকে একত্রিত হয়ে সরব হওয়ার অনুরোধ জানান। বৈঠকে রাহুল জানান আগামী ১৭ অগস্ট তিনি ফের বিহারে যাচ্ছেন। বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে শঠতার আশ্রয় নিয়েছে তা প্রমাণ সহ গোটা দেশের মানুষের কাছে হাজির করা হবে।