নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: লোকসভা ভোটে মোদি ম্যাজিক রুখতে ঢাকঢোল পিটিয়ে গঠন করা হয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের। কিন্তু বছর দেড়েক যেতে না যেতেই সেই জোটের কার্যত মৃত্যুঘন্টা বেজে গিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কোনও রাখঢাক না রেখে জোটের অন্যতম শরিক এনসিপি (এসসিপি)-র সুপ্রিমো শরদ পওয়ার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘জাতীয় স্তরের ভোটের (পড়ুন লোকসভা নির্বাচন) জন্যই ‘ইন্ডিয়া জোট’ গঠন করা হয়েছিল। জাতীয় স্তরের নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জোটের প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়েছে।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেস নেতৃত্বের দাদাগিরিতে ক্ষুব্ধ হয়েই ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে দুরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতারা।
গত বছর নভেম্বরে মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে ‘মহা বিকাশ আগাড়ি’ মুখ থুবড়ে পড়ার পরেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দিল্লির বিধানসভা ভোট ঘিরে জোটের ফাটল আরও চওড়া হয়েছে। রাজধানীর ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে জোটের দুই শরিক আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেস। দুই দলের দ্বৈরথে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পাশে এসে আগেই দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব।
এদিন দিল্লির ভোটে আপকে সমর্থনের কথা জানান শরদ পওয়ারও। তাঁর কথায়, ‘জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই ইন্ডিয়া জোট গঠন করা হয়েছিল। দিল্লির বিধানসভা ভোটে ইন্ডিয়া জোটের কোনও অস্তিত্বই নেই। দিল্লি মূলত আম আদমি পার্টির শক্ত ঘাঁটি। দু’বার ওই দলকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন জানিয়েছিলেন রাজধানীর বাসিন্দারা। ওই বাস্তবতা সব দলকেই মেনে নিতে হবে।’