নিজস্ব প্রতিনিধি: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! বাংলাদেশি মডেল শান্তা পালকে ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার ঘটনায় মেমারি থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। মঙ্গলবার (৫ অগস্ট) সকালেই নৈহাটি থেকে সৌমিক দত্ত নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, তাকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মেমারি থেকে ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
বাংলাদেশিদের নামে নালিশ ঠুকতে গিয়েই কলকাতা পুলিশের হাতে গত মঙ্গলবার পাকড়াও হয়েছিলেন বাংলাদেশি মডেল শান্তা পাল। তার কাছ থেকে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড পাওয়া গিয়েছে। একটি নয়, দুটো আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে। একটি বর্ধমানের ও অন্যটি কলকাতার। বর্ধমানের আধার কার্ডের ঠিকানায় লেখা আছে শান্তা পাল, গ্রাম গোপালপুর, রজডাঙ্গা, প্রযত্নে স্বপন পাল। ২০২০ সালে সেই আধার কার্ড ইস্যু হয়। যদিও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শান্তা কোনও দিন তাদের এলাকায় ছিলেন না।
ভারতীয় নথির পাশাপাশি শান্তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এছাড়াও মিলেছে বাংলাদেশি বিমানের কর্মী পরিচয়পত্র। পুলিশ জানিয়েছে শান্তার আসল বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলায়। বাংলাদেশে শান্তা দু’টি প্রতিষ্ঠানে মডেল হিসাবে কাজ করতেন। বাংলাদেশি সিনেমাতেও কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কয়েক বছর আগে তেলুগু ছবিতে অভিনয়ের দৌলতে এপারে আসেন। তার পরে আর ফিরে যাননি বেশ কয়েকটি ডেরা বদলে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। ২০২৩ সালে যাদবপুরের কাছে বিক্রমগড়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। কয়েকদিন আগে ঠাকুরপুকুর থানায় গিয়ে একটি গৃহসজ্জা সংস্থার কর্ণধারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও দায়ের করেছিলেন ধৃত মডেল কাম অভিনেত্রী।
কয়েকদিন আগে একজনের কাছে দু’দেশের পরিচয়পত্র পাওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক শান্তা। কিভাবে তাঁর কাছে ভারতীয় নথি এলো, তা তদন্ত করে দেখতে গিয়েই নৈহাটির বাসিন্দা সৌমিক দত্ত নামে এক যুবকের হদিশ পান তদন্তকারীরা। তাকে এদিন সকালেই গ্রেফতার করা হয়।