নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এমনই বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল সংসদের উচ্চকক্ষ।
কী ঘটেছিল?
‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে এদিন রাজ্যসভায় আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোঁচা দিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিতর্কের শেষের দিকে বলতে উঠে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতাকে পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটেন কেন্দ্রীয স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তিনি খাড়গের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তাতে বোঝা যাচ্ছে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। আপনার যন্ত্রণাটা আমি বুঝি। ১১ বছর বিরোধী বেঞ্চে রয়েছেন। যে প্রধানমন্ত্রীকে গোটা বিশ্ব সম্মান জানাচ্ছে কুর্নিশ করছে তাঁকেই অপমান করছেন।’
নাড্ডার ওই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয় হইচই। কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবিরের সাংসদরা ‘শেম-শেম’ শ্লোগান তোলেন। হই-হট্টগোলে কার্যত সভার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আলটপকা মন্তব্য করে ফেলেছেন বুঝতে পেরে উঠে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চান জেপি নাড্ডা। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলনেতাকে আমরা সম্মান করি। খাড়গে-জি বর্ষীয়ান নেতা। তাই তাঁর সম্পর্কে আমি যে শব্দ প্রয়োগ করেছি (মানসিক ভারসাম্য নষ্ট) তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। সভাধ্যক্ষকে (ডেপুটি চেয়ারম্যান) অনুরোধ করছি, ওই শব্দবন্ধ সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হোক।’ নাড্ডার ওই কথা শুনে খাড়গে বলেন, ‘আমি নাড্ডা-জি, রাজনাথ সিংহ সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে বিশেষ সম্মান করি। যারা ভারসাম্য রেখে কথা বলেন। অথচ আজ নাড্ডা-জি আমায় মানসিক ভারসাম্যহীন বললেন। এটা লজ্জার।ওঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ এ কথা শোনার পরে নাড্ডা ফের দাঁড়িয়ে খাড়গের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আমার শব্দ প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। আমার বলা কথা আপনাকে আঘাত করলে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কিন্তু আপনিও আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে যে শব্দ প্রয়োগ করেছেন তা আমাকে আঘাত করেছে।’