নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তার শরীর কংগ্রেসে পড়ে থাকলেও মন যে অনেক আগেই বিজেপিতে চলে গিয়েছে তা বুঝিয়ে দিলেন শশী থারুর। বুধবার (২৫ জুন) বেনজিরভাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে আক্রমণ করে তিরুঅনন্তপুমের সাংসদ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, কংগ্রেস তার কাছে অতীত। বিজেপিই তার ভবিষ্যত। যে কোনও দিন দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন। যদিও তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদদের ভোলবদল নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতার কথায় ‘শশী থারুরের মতো ঘর শত্রু বিভীষণরা যত দ্রুত দল ছাড়ে ততই দলের মঙ্গল।’
গত কয়েক মাস ধরেই বিজেপি শিবিরের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন শশী থারুর। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে চলেছেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে দলের নীতি অমান্য করে বিজেপির শেখানো বুলি আওড়ে চলেছেন। সূত্রের খবর, সামনের বছর কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। আর ওই নির্বাচনে দক্ষিণের রাজ্যটিতে থারুরকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে সামনে রেখে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সীর্ষ নেতৃত্ব। তার আগে তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদকে দিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধিদের বিড়ম্বনা বাড়াতে চান নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা।
থারুর যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তার প্রমাণ মিলেছে অপারেশন সিঁদুরের পরেও। কংগ্রেস নেতৃত্ব নাম না পাঠালেও ‘ঘরের ছেলে’ থারুরকে সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতা করে বিদেশে পাঠিয়েছেন মোদি। আর ওই বিদেশ সফরের সুযোগের কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর ভজনা করে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিশেষ নিবন্ধ লিখেছেন বিজেপিমুখো থারুর। রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে ওই নিবন্ধ আবার প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। থারুরের এমন ভূমিকা ভাল চোখে দেখেননি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বুধবারই তিনি এ বিষয়ে দলীয় সাংসদকে বেঁধেন। দলের সভাপতির কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিতে দেরী করেননি ‘বিজেপি বান্ধব’ থারুর। মাইক্রো ব্লিগিং সাইট এক্স হ্যান্ডলে পাখির এক ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আকাশ কাও নয় আর ওড়ার জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নিজের প্রতীকী হিসাবে পাখিকে তুলে ধরেছেন থারুর। বুঝিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসের ডেরা ছেড়ে উড়াল দিয়ে বিজেপির ডেরায় বাসা বাঁধতে তৈরি তিনি।