নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দিলেন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল সোমবার (৭ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা-সহ মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে ওই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রকের আধিকারিকদের ইউনূস বলেন, ‘শেখ মুজিবের নামগন্ধ যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত না থাকে তা নিশ্চিত করুন। মাওলানা ভাসানি, জিয়াউর রহমান সহ বাকি নেতাদের অবদান বেশি করে দেখান। মুক্তিযুদ্ধের উপরে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে মুজিবকে হটিয়ে দিন। আগামী প্রজন্ম যেন ভুলে যায়, শেখ মুজিব নামে কোনও রাজনৈতিক নেতা বাংলাদেশে ছিল।’ ইউনূসের মুখে ওই কথা শুনে বৈঠকে হাজির মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রকের আধিকারিকরা থমকে যান।
বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা তথা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে জড়িত ফারুক ই আজম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার জমানায় মুক্তিযুদ্ধের ভুল ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিভ্রান্তিকর ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অবকাঠামোতে রণাঙ্গনের কোনও বিস্তৃত বর্ণনা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনা নেই, শুধু শেখ মুজিব পরিবারের ছবি-সরঞ্জাম দিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নায়ক হিসাবে হাজির করতে কোটি-কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।’
বৈঠকে দেশে অবশিষ্ট থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রকের এক আধিকারিক। তিনি জানান, ‘বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন সরকারি অর্থ ব্যয় করে শেখ হাসিনা সরকার গোটা দেশে শেখ মুজিবের যে ম্যুরাল বসিয়েছিল, তার অধিকাংশই ছাত্র-যুবরা ভেঙে দিয়েছে। বাকি ম্যুরাল প্রশাসনের উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মানেই শেখ মুজিব-এমন মিথ ভেঙে ফেলা হবে। বরং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে শেখ মুজিবের তেমন কোনও অবদান ছিল না, সেটা বেশি করে তুলে ধরতে হবে। সেই সঙ্গে একাত্তরের লড়াইয়েব যে আরও অসংখ্য নেতার অবদান ছিল, যারা উপেক্ষিত থেকে গিয়েছেন, তাদের কথা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রকের বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ তাদের নামে করা হবে। মন্ত্রকের তরফে তাদের নিয়ে বই প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যচিত্রও নির্মাণ করতে হবে।’