নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাকারী পাকিস্তানি শাসকদের নির্দেশে বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন ‘রাজাকার’ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। দেশ স্বাধীনের পর বাহাত্তর সালে তৈরি হওয়া সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমে বিরোধিতা করলেও ডিগবাজি খেয়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার পক্ষে দাঁড়াল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল। শুধু ধর্মনিরেপেক্ষতা শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকেই সমর্থন জানায়নি, সংবিধানের মূল চার নীতি বাদ দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছে। দলের এমন ডিগবাজি খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজেও সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ বাদ দিতে চেয়েছিলেন। তিনিও বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তার অধরা স্বপ্ন পূর্ণ করতেই সংবিধানের মূল চার নীতি বদলের সুপারিশকে সমর্থন জানানো হচ্ছে।
গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার পতনের পরেই স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে রাজাকার মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। স্বাধীনতার পরে বাহাত্তর সালে তৈরি হওয়া সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট আলী রিয়াজকে। তাকে সহযোগিতা করার দায়িত্বে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান।তিন জন মিলে সংবিধানের চার মূলনীতি বদলানোর পাশাপাশি দেশের নাম ও পতাকা বদলানোরও সুপারিশ জমা দেয়।
স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরির পরে ১৯৭২ সালে যে সংবিধান রচিত হয়েছিল, তাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে চার মূল নীতি অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছিল।ওই চার নীতি হল- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। নতুন সংবিধানে ওই চার নীতির মধ্যে শুধু গণতন্ত্র রাখার সুপারিশ করা হয়। নতুন মূল নীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও বহুত্ববাদকে রাখা হয়। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল চরম মূল। পাকিস্তান ভাঙার প্রায়শ্চিত্ত করার যে সুযোগ এসেছে তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা উচিত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ প্রকৃত স্বাধীন হয়েছে।