আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চার দশক পর শনাক্ত করা হল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান কনিষ্কর নাশকতার সঙ্গে যুক্ত পরিকল্পনাকারী ব্যক্তিকে। ১৯৮৫ সালের এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট AI 182’তে বোমা হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপে বোমা পরীক্ষায় সাহায্যকারী দীর্ঘ-রহস্যময় ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে কানাডার পুলিশ। কয়েক দশক ধরে চলা তদন্তের ক্ষেত্রে এটি এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
ভ্যাঙ্কুভার সানের এক প্রতিবেদন অনুসারে, বছরের পর বছর ধরে ওই ব্যক্তি ‘মিস্টার X’ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৫ সালের ২৩ জুন ৩২৯ জন যাত্রী যে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন তাতে ওই ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে জানা গিয়েছে। সেবার নিহত যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই কানাডার নাগরিক ছিলেন।
রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) সহকারী কমিশনার ডেভিড টেবুল নিশ্চিত করেছেন যে, সম্প্রতি ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছে। যতদিন বেঁচেছিল ততদিন কেউ প্রমাণ করতে পারেনি বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে তার থাকার কথা। কানাডার গোপনীয়তা আইনের কারণে মিস্টার X-এর নাম আজও প্রকাশিত হয়নি।
২০০৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মূল সন্দেহভাজনকে খালাস করে দেওয়া হয়। তারপরেও নানা বাধা বিপত্তি আসলেও তদন্ত অব্যাহত ছিল। তাতেই মিস্টার X-এর পরিচয় সামনে আসে।
১৯৮৫ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান নাশকতার ছক তৈরি করেছিল শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বাবর খালসার প্রতিষ্ঠাতা তালবিন্দর সিং পারমার। সে ছিল মূল পরিকল্পনাকারী। আট বছর পর ১৯৯২ সালে পঞ্জাবে ভারতীয় পুলিশ পারমারকে হত্যা করে। তখনও বিমান নাশকতায় পারমারের যোগসাজশের প্রমাণ মেলেনি।
মিস্টার X এবং ইন্দ্রজিৎ সিং রেয়াতের সঙ্গে পারমার ১৯৮৫ সালের ৪ জুন ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ডানকানে যায়। সেখানে তিনজন মিলে এক জঙ্গলের ভেতর বিস্ফোরক পরীক্ষা করে। পারমাররা জানতই না তাদের অনুসরণ করছিল কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (CSIS) এজেন্টরা। এজেন্টরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন, কিন্তু গুলির শব্দ ভেবে ভুল করেছিলেন।
হামলার সঙ্গে জড়িত একমাত্র ব্যক্তি রেয়াতকে এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার মাত্র ৫৪ মিনিট আগে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে পৃথক বিস্ফোরণ ঘটানোর চক্রান্ত করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার সেই বিস্ফোরণে দুজন লাগেজ হ্যান্ডলার নিহত হয়েছিল।
পরে রেয়াত, পারমার এবং মি. Xকে এয়ার ইন্ডিয়া বোমা তৈরিতে সহায়তা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু সাক্ষ্যের সময় রেয়াত দাবি করেছিলেন যে তিনি সহযোগীর নাম জানেন না। পরে আদালতে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদানের জন্য রেয়াতকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।