আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাই-প্রোফাইল মধ্যাহ্নভোজ শিরোনামে এসেছে। তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে হোয়াইট হাউজের দুটি মেনু কার্ড। একটিতে দাবি করা হয়েছে যে খাবারে থাকা মাংস ইসলামি রীতি মেনে ‘হালাল’ করা হয়েছিল। অন্যটিতে দেখা যাচ্ছে মধ্যাহ্নভোজনে একাধিক পর্ক আইটেম ছিল। পরস্পরবিরোধী এই দুই মেনুকার্ডের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
১৮ জুন প্রথম মেনুকার্ডটি প্রকাশ্যে আসে। তাতে লেখা ছিল পরিবেশিত সমস্ত মাংসের পদ হালাল করা। খাবারের শুরু হএছিল গোট চিজ গেট্যিউ দিয়ে, শেষ হয়েছিল ক্রিম ফ্রিচ আইসক্রিম দিয়ে। নীচে স্পষ্ট ভাবে লেখা ছিল, ” রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড জে ট্রাম্প কর্তৃক আয়োজিত সমস্ত খাবারই হালাল।”
কিছুক্ষণ পরেই আর একটি মেনু কার্ড প্রকাশিত হয়। তাতে দুটি পর্ক আইটেমের তালিকা ছিল। সেগুলি হল বোস্ট পর্ক টেন্ডারলয়েন, ব্রেইজড পর্ক শোল্ডার। এই মেনুকার্ডে ‘সমস্ত খাবার হালাল নয়’ বলে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে কি আসিম মুনির শূকরের মাংস খেয়েছেন?
The #WhiteHouse menu, for the luncheon that was served today! #DonaldTrump #AsimMunir #Pakistan #India.. pic.twitter.com/sUzXJkJ6Vs
— Getee (@GetiAra) June 19, 2025
ইসলামে শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু হোয়াইট হাউজের মধ্যাহ্নভোজে তো পর্ক আইটেম ছিল, মুনির কি তা চেখে দেখেছেন? এর আগে এক প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন ভারতীয় সেনাকর্তা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ইসলামে মদ্যপান নিষিদ্ধ। কিন্তু সীমান্তে বা যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনা আধিকারিকদের ঘরে এসে পাক উচ্চপদস্থ সেনারা মদ্যপান করে যেতেন সেসব নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই। এক্ষেত্রেও কি তেমনটাই করেছেন মুনির, উঠছে প্রশ্ন।
The White House releases today’s lunch menu.
Hosted by Donald Trump for Asim Munir.
Only Pork dishes in the main course.
So this is the reason why President Trump invited General #AsimMunir for lunch. pic.twitter.com/Ko1TCCrV6K
— Kanwaljit Arora (@mekarora) June 18, 2025
হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট রুমে আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজ এক অভূতপূর্ব উপলক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর আগে কখনও কোনও মার্কিন রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানের কোনও ঊর্ধ্বতন বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়া পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে আতিথ্য দেননি। যদিও ট্রাম্প বলেছেন পাকিস্তান কথা শুনে আর যুদ্ধ করেনি, তাই তিনি সেদেশকে ধ্ন্যবাদ জানাতে চেয়েচেয়েছিলেন। দেশের প্রতীভূ হয়ে গিয়েছিলেন আসিম মুনীর।
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি আগের রাতে কথা বলেছিলেন। দুজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। নাহলে এটি একটি পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারত।
হোয়াইট হাউস এর আগে বলেছিল যে পারমাণবিক সংঘাত রোধের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার আবেদন জানিয়েছিল পাকিস্তান। তারপরেই ট্রাম্প মুনিরকে আতিথ্য প্রদানে রাজি হন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে তিনি ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ইরান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন। তেহরানের বিষয়ে পাকিস্তানের অন্তর্দৃষ্টি ‘অন্যান্যের থেকে ভাল’।
তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের সময় কোনও বাণিজ্য চুক্তি বা মধ্যস্থতা আলোচনা হয়নি।