আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সারা বিশ্ব যতই আধুনিক হয়ে উঠুক না কেন বর্ণবিদ্বেষ আজও পৃথিবীতে রয়ে গিয়েছে। গত ৩০শে মে লন্ডনে একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে। লন্ডনের একটি পার্কে তিনজন প্রবীন ব্যক্তি মিলে তিনজন ব্রিটিশ হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই তিন প্রবীন ব্যক্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। যুবকরা জানিয়েছেন, যখন বলেছিলেন যে তাঁরা ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান, তখন তাদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করে মারধর করা হয়। প্রচন্ড মারধরের কারণে দুই যুবক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তিনজনেরই মুখের বিভিন্ন অংশ ফেটে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার হাউস অফ কমন্সে মামলাটি নিয়ে আলোচনা করার সময়, টোরি এমপি বব ব্ল্যাকম্যান এটিকে “ধর্মীয় বিদ্বেষ” বলে অভিহিত করেন।
জানা গিয়েছে, ওই যুবকদের বয়স ২০-২১ বছর বয়সী। তাঁরা বন্ধুরা মিলে ক্রিকেট খেলার জন্য হ্যারো রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে গিয়েছিলেন। লন্ডনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিন যুবক একটি ক্যাফের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে প্রায় আট জনের একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবার বসেছিলেন। কিছু মহিলা হিজাব পরিহিত ছিলেন। ক্যাফেতে বসে থাকা একজন ব্যক্তি আচমকা তাঁদের তিনজনের সামনে এসে জিজ্ঞাসা করে যে যুবকেরা কেন তাঁর পরিবারের দিকে তাকিয়ে আছেন। তখন যুবকরা উত্তর দেন, তাঁরা পরিবারের দিকে নয়, তাকিয়ে রয়েছেন যে বন্ধুরা ক্রিকেট খেলছেন তাঁদের দিকে। ওই পরিবারেরই দুজন তখন উঠে এসে জানান যে যুবকেরা সত্যি কথাই বলছেন। এরপর তিন যুবক পার্কে ফিরে এসে বসে পড়ে।
এর কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন, “তোমরা কোথা থেকে এসেছ? তোমরা কি শ্রীলঙ্কান? তোমরা কি ভারতীয়?” শ্রীলঙ্কানদের মধ্যে একজন উত্তর দেয়, “হ্যাঁ, আমরা তাই।” যুবকদের মধ্যে একজন ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় গুজরাতি হিন্দু। তাঁর বোন জানিয়েছেন এরপরেই যুবকদের দিকে একের পর এক লাথি, ঘুষি চালানো হয়।
যুবকদের তারপর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই আক্রমণটি ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণেই হয়েছিল সে বিষয়ে প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে তদন্ত চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।