আন্তর্জাতিক ডেস্ক, শ্রীলঙ্কা: শনিবার চেন্নাই থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে চালানো হল তল্লাশি। খবর ছিল যে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য সন্দেহভাজনরা এই বিমানে রয়েছে। বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিআইএ) এক বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে চেন্নাই থেকে আসা একটি বিমানে ছয়জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর উপস্থিতি সম্পর্কে ভারত থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তাই বিমানটি শ্রীলঙ্কা পৌঁছাতেই তাতে তল্লাশি চালানো হয়।
এক সরকারি বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে, চেন্নাই থেকে কলম্বো পৌঁছানোর পর 4R-ALS দ্বারা পরিচালিত বিমান UL 122-তে নিরাপত্তা আধিকারিকরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তাদের কথায়, “শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স জনসাধারণকে জানাচ্ছে যে আজ (৩ মে) রাত ১১:৫৯ মিনিটে চেন্নাই থেকে কলম্বোগামী 4R-ALS দ্বারা পরিচালিত ফ্লাইট UL 122 বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “চেন্নাই এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার থেকে জানানো হয় যে ভারতে ওয়ান্টেড একজন ব্যক্তি এই বিমানে রয়েছে। সতর্কতা জারির পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে তল্লাশি অভিযান করা হয়েছিল। সেই ব্যক্তি বিমানটিতে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।”
বিমান সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে বিমানটি পরিদর্শনের পর ওড়ার ছাত্রপত্র পায়। তবে, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা পদ্ধতির কারণে পরবর্তী নির্ধারিত সিঙ্গাপুর পরিষেবা শুরু হতে বেশ কিছুটা হয়েছে।
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন ছিলেন পর্যটক। ১ জন ছিলে স্থানীয় কাশ্মীরী পনিচালক যিনি জঙ্গিদের বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারান। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর উপত্যকায় এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা। পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি)-এর ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে। যার ফলে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সর্বপ্রকার কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করেছে।