নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর: রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স গুপ্তচরবৃত্তির গুরুতর অভিযোগে জয়সলমীরের এমপ্লয়মেন্ট অফিসের একজন সহকারী প্রশাসনিক আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে। ওই ব্যক্তির নাম শাকুর খান। তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্টদের কাছে ভারতের কৌশলগত তথ্য প্রেরণের অভিযোগ রয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (সিআইডি সিকিওরিটি) বিষ্ণুকান্ত গুপ্ত নিশ্চিত করেছেন যে ওই ব্যক্তির উপর দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখা হচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নজরদারির সময় শাকুর খান পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে, বিশেষ করে এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশ এবং সোহেল কামারের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখেছিল। উল্লেখ্য, ভারত সরকার ইতিমধ্যেই দানিশকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে।
জয়পুরের কেন্দ্রীয় জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে জেরার সময় শাকুর খান স্বীকার করে যে সে বেশ কয়েকবার পাকিস্তানে গিয়েছিল। দানিশের সহায়তায় ভিসা পেয়েছিল। পাকিস্তানে থাকাকালীন আইএসআই এজেন্টদের সঙ্গে দেখাও করেছিল শাকুর, এই অভিযোগও রয়েছে। ভারতে ফিরে আসার পর বিভিন্ন কৌশলে সে তথ্য সংগ্রহ করে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে সেই সব পাঠিয়েছিল।
জয়সলমীরে একজন সহকারী প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে কর্মরত খানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের জন্ম দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে শাকুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। এই বিষয়ে আরও তদন্ত এখনও চলছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার পঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও এক পাকিস্তানি গুপ্তচরকে। তার সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও শীর্ষ খালিস্তানি সন্ত্রাসী গোপাল সিং চাওলার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার ওই গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করত। এর মধ্যে অপারেশন সিঁদুরও রয়েছে।