নিজস্ব প্রতিনিধি, পুনে: ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে গ্রেফতার হয়েছিলেন পুনের ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্রী। এই ঘটনার জন্য মহারাষ্ট্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বম্বে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার আদালতের পক্ষ থেকে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে ‘উগ্র’ এবং ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে। আদালত বলেছে যে ওই ছাত্রী নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তারপরেও তাঁকে অন্যায়ভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিচারপতি গৌরী গডসে এবং বিচারপতি সোমশেখর সুন্দরেশনের বেঞ্চ ১৯ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর আইনজীবী ফারহানা শাহকে অবিলম্বে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে আশ্বাস দেয় যে আদালত একই দিনে জামিন মঞ্জুর করবে যাতে ছাত্রী পরীক্ষায় বসতে পারেন।
বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে এই বিষয়ে বলেছে, “ওই তরুণী কিছু পোস্ট করেছিলেন, পরে ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে নেন। তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে, রাজ্য সরকার তরুণীকে গ্রেফতার করে অপরাধীতে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
সিংহগড় অ্যাকাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ওই ছাত্রী চলতি মাসের শুরুতে ‘রিফর্মিস্তান’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে। সেই জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই পোস্টে অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপটে ভারত সরকারের সমালোচনা করা হয়েছিল। পোস্টটি করার পর তাঁর কাছে হুমকি আসতে থাকে। পোস্টের দু’ঘন্টার মধ্যে তরুণী সেটি মুছে ফেলেন এবং জনসমক্ষে ক্ষমা চান। তা সত্ত্বেও, ৭ মে কোন্ধওয়া পুলিশ তরুণীকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার পর বর্তমানে পুনের ইয়েরওয়াড়া কারাগারে বন্দি রয়েছেন ওই পড়ুয়া।
সরকারের পদক্ষেপ এবং কলেজের পক্ষ থেকে ছাত্রীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে হাইকোর্ট। আদালতের কথায়, “কীভাবে রাজ্য এভাবে একজন ছাত্রীকে গ্রেফতার করতে পারে? রাজ্য কি চায় ছাত্র ছাত্রীরা তাদের মতামত প্রকাশ বন্ধ করে দিক? রাজ্যের এই ধরনের চরম প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিকে আরও চরমপন্থী করে তুলবে।”
বিচারপতি বেঞ্চ কলেজের প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেছেন। “কেউ নিজের মতামত প্রকাশ করছে, আর আপনারা এভাবে তাঁর জীবন নষ্ট করছেন? একজন ছাত্রীর জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছে”, ছাত্রীকে বহিষ্কার করার যে সিদ্ধান্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়েছিল তার প্রবল প্রতিবাদ করে স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করে আদালত।
৯ মে সিংহগড় অ্যাকাডেমি কর্তৃক জারি করা একটি সরকারি বহিষ্কারের চিঠিতে ওই ছাত্রীর প্রতি ‘প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাহানি’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে যে তাঁর ‘দেশবিরোধী মনোভাব’ রয়েছে যা ক্যাম্পাস এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকারক।
আদালত কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কারমূলক ভূমিকার কথাও মনে করিয়ে দেয়। বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ কেবল অ্যাকাডেমিক শিক্ষা প্রদান করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সংস্কারে সহায়তা করাও। মেয়েটি এমন একটি বয়সে আছে যেখানে ভুল হতেই থাকে।”
ছাত্রীর আবেদনে বহিষ্কারকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে এবং ২৪শে মে থেকে শুরু হওয়া সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং পুনর্বহালের দাবি করা হয়েছে।