নিজস্ব প্রতিনিধি: বলিউড পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ প্রায়শই তাঁর স্পষ্টবাদী বক্তব্যের জন্যে শিরোনাম হন। সম্প্রতি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে অহেতুক দৃশ্য থাকার কারণে প্রতীক গান্ধি ও পত্রলেখা অভিনীত ‘ফুলে’ ছবির মুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল। এরপরই সেন্সর বোর্ডের তুমুল সমালোচনা করে বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। এমনকী ‘ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মুখে প্রস্রাব করব’, এমন মন্তব্যের জন্যেও তাঁকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। যে কারণে তিনি ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। এদিকে বর্তমানে তিনি মুম্বইতে থাকেন না। বলিউডের পাঠও চুকিয়েছেন। দক্ষিণী ছবিতে কাজের জন্যে তিনি এখন দক্ষিণে থাকেন। এ আবহে অনুরাগ কাশ্যপ প্যান-ইন্ডিয়া চলচ্চিত্র সম্পর্কে একটি বেফাঁস মন্তব্য করলেন।
তাঁর দাবি, ‘বেশি মুনাফা অর্জনের লোভে চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্যান ইন্ডিয়ার প্রতিটি প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন। কিন্তু ফলস্বরূপ তা বক্সঅফিসে ব্যার্থ হচ্ছে। তাই আমার কাছে প্যান ইন্ডিয়া চলচ্চিত্রগুলি এক একটি কেলেঙ্কারি ছাড়া আর কিছুই নয়। প্যান ইন্ডিয়া একটি শব্দ। একটি চলচ্চিত্র তখনই সমগ্র ভারত জুড়ে সফলতা পায়, যখন তা গোটা ভারতজুড়ে দুর্দান্ত ব্যবসা করে। কিন্তু কী করে মুক্তির আগেই নির্মাতারা বুঝে যান যে, তাঁর ছবি দেশ তো বটেই বিশ্বজুড়ে রাজত্ব করবে? একটি ছবি তৈরি করতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। যার সঙ্গে অনেক লোকজন জড়িত থাকে। এই কারণেই সব টাকা ছবির পেছনে খরচ হয় না। গল্প এবং অভিনেতারা তো একই থাকে, কিন্তু টাকাটা বড় বড় সেটগুলিতে যায়, যার কোনও অর্থ নেই।’
তিনি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আরও বলেন যে, এই টাকার মাত্র ১% কাজ করে, ১% সারা ভারতে ঘুরে বেড়ায়। কিছু ছবি এমন সাফল্য পেয়েছে যা কেউ আশা করেনি, যেমন ‘স্ত্রী ২’। এর মাধ্যমেই শুরু হয় ভৌতিক কমেডির জগত। ‘উরি’ যখন সফল হয়, তখন সবাই জাতীয়তাবাদী ছবি বানাতে শুরু করে। ‘বাহুবলী’র পর সবাই প্রভাস বা অন্য কোনও অভিনেতাকে নিয়ে বড় ছবি বানাতে শুরু করে। ‘কেজিএফ’-এর সাফল্যের পর সবাই একই রকম ছবি বানাতে শুরু করে এবং এখান থেকেই গল্পের অবনতি শুরু হয়। এত বড় সুপারহিট ছবির সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা গল্পের উপর জোর দিতে ভুলে যান এবং দর্শকদের মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে প্রতি দুই-তিন মিনিটে একটি আইটেম নম্বর পরিবেশন করেন। এটা সবই একটা সূত্রে পরিণত হয়েছে। কারণ সবাই ৮০০-৯০০-১০০০ কোটি টাকার পিছনে ছুটছে। সংখ্যাগুলি বাড়ছে। কিন্তু গত ৫ বছরে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি ছবি ৮০০-৯০০-১০০০ কোটি আয় ছুঁতে পরে। যেখানে আমরা প্রতি বছর ১০০০-এরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি।’