নিজস্ব প্রতিনিধি: বার বার বদলাল ম্যাচের রং। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে রাজস্থান রয়্যালসকে রান হারিয়ে ইডেন গার্ডেন্সে শেষ হাসি হাসল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই সঙ্গে প্লেঅফে পৌঁছনোর আশা জিইয়ে রাখলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। প্রথমে ব্যাট করে আন্দ্রে রাসেলের ঝোড়ো ইনিংসের দৌলতে চার উইকেটে ২০৬ রান তুলেছিল কেকেআর। জবাবে আট উইকেট হারিয়ে ২০৫ রানেই থমকে যায় রাজস্থান।
রবিবার (৪ মে) টস জিতে এদিন ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কলকাতার অধিনায়ক রাহানে। যদিও গোড়াপত্তন খুব একটা ভাল হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। দ্বিতীয় ওভারেই যুধবীর সিংহের বলে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সুনীল নারাইন (১১)। দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে সেই ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা চালান রহমনুল্লাহ গুরবাজ ও রাহানে।মারমুখী মেজাজে খেলে দুজনে ৫৬ রান যোগ করেন। অষ্টম ওভারে মাহেশ তিকশানার বলে সাজঘরে ফেরেন গুরবাজ। আউটের আগে করে যান ২৫ বলে ৩৫ রান। এর পর তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন রাহানে ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। যদিও রান তোলার গতি খানিকটা শ্লথ হয়ে যায়। আগের ম্যাচগুলির মতোই ভাল শুরু করে বেশিদূর এগোতে পারেননি নাইট অধিনায়ক। ২৪ বলে ৩০ রান করে ফেরেন রাহানে।
তবে এর পরেই ম্যাচে নাটকীয় মোড়। অফ ফর্মে থাকা বেঙ্কটেশ আইয়ারের পরিবর্তে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হয় আন্দ্রে রাসেলকে। ব্যাট করতে নেমে শুরুর দিকে গুটিয়ে ছিলেন তিনি। পরে থিতু হতেই হাত খুলে মারতে শুরু করেন। রাজস্থানের বোলারদের কার্যত তুলোধনা করেন। উল্টোপ্রান্তে থাকা রঘুবংশীও হাত খুলে মারতে শুরু করেন। তিনি ফেরেন ৪৪ রান করে। এর পর রাসেল ও রিঙ্কু সিংহ হাত খুলে পেটাতে শুরু করেন। থিকশানার এক ওভারেই তিন ছক্কা হাঁকান রাসেল। শেষ পর্যন্ত ২০৬ রানে পৌঁছয় কলকাতা। রাসেল ২৫ বলে ৫৭ এবং রিঙ্কু সিংহ ৬ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। রাজস্থানের হয়ে রিয়ান পরাগ, মাহেশ থিকশানা, যুধবীর সিংহ ও জোফ্রা আর্চার একটি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ২০৭ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে রাজস্থান রয়্যালস। যাকে নিয়ে মাতামাতি হচ্ছিল সেই বিস্ময় প্রতিভা বৈভব রঘুবংশী ইনিংসের পঞ্চম বলেই ফিরে যান। বৈভব অরোরার বলে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন চার রান। পরের ওভারে মইন আলির বলে ফেরেন অভিষেক ঘটা কুণাল সিংহ রাঠোর। তিনি পাঁচ বলে করেন শূন্য। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা চালান যশস্বী জয়সোয়াল ও অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। ভালই খেলছিলেন দুজনে। সপ্তম ওভারে যশস্বীকে (৩৪) ফিরিয়ে জোর ধাক্কা দেন মইন। পরের ওভারে জোড়া আঘাত করে রাজস্থানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন বরুণ চক্রবর্তী। তৃতীয় বলে শূন্য রানে ফেরেন চলতি আইপিএলে চরম ব্যর্থ ধ্রুব জুরেল। পঞ্চম বলে ফিরে যান ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গা (০)। ৭১ রানে ৫ উইকেট চরম বিপাকে পড়ে যায় রাজস্থান।
এর পর ষষ্ঠ উইকেটে শিমরান হেইটমায়ারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে খাদ থেকে টেনে তোলেন রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। কলকাতার বোলারদের পাল্টা মারের পথে হাঁটেন। ১১.৫ ওভারে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ২৭ বলে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। আর তার পরেই তাণ্ডব শুরু করে দেন। ১৩ তম ওভারে মইন আলির বলে পাঁচ ছক্কা হাঁকান। ওই ওভারে ৩২ রান তুলে ম্যাচের রং আচমকাই বদলে দেন। ১৬তম ওভারে বল করতে এসে হেইটমায়ারকে ফিরিয়ে ৯২ রানের জুটি ভাঙেন হর্ষিত রানা। ২৩ বলে ২৯ রান করে ফেরেন হেইটমায়ার। ১তম ওভারে এসে ফের রাজস্থানকে ধাক্কা দেন হর্ষিত। শতরানের দোরগোড়া থেকে ফিরিয়ে দেন রিয়ানকে। আউট হওয়ার আগে ছয়টি চার ও আটটি ছক্কার সাহায্যে ৪৪ বলে ৯৫ রান করেন রাজস্থান অধিনায়ক। ফের বদলে যায় ম্যাচের রং। শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৩ রান। বৈভব অরোরার প্রথম ৫ বলে ১৯ রান তোন শুভম দুবে ও জোফ্রা আর্চার। কিন্তু শেষ বলে রান আউট হয়ে যান আর্চার (৮ বলে ১২)। ফলে ২০৫ রানেই থমে যায় রাজস্থান। শুভম ১৪ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।