নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর: মরুভূমিতে সোমবার রাতে আচমকাই আছড়ে পড়ল বৈভব টর্নেডো। আর সেই টর্নেডোয় খড়কুটোর মতো উড়ে গেল গুজরাত টাইটান্স। মরণ-বাঁচন ম্যাচে জয় পেয়ে আইপিএলে প্লে-অফে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখল রাজস্থান রয়্যালস। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান তুলেছিল গুজরাত। জবাবে যশস্বী জয়সোয়াল আর বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডবে ২৫ বল বাকি থাকতেই হাতে ৮ উইকেট নিয়ে জয় হাসিল করে রাজস্থান রয়্যালস।
সোয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে এদিন টস জিতে প্রথমে গুজরাতকে ব্যাট করতে পাটান রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করেন গুজরাতের দুই ওপেনার সাই সুদর্শন ও শুভমন গিল। রাজস্থানের বোলারদের ক্লাব পর্যায়ে নামিয়ে এনে রান মেশিন সচল রাখেন তারা। সুদর্শনের চেয়েও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন গিল। সপ্তম ওভারে তাঁর লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দেন বৈভব সূর্যবংশী। তখন ৩৩ রানে ব্যাট করছিলেন গুজরাত অধিনায়ক। জীবন ফিরে পেয়ে অনায়াসেই নিজের অর্ধশতরান করেন গিল। ৫০ পূর্ণ করতে নেন ২৯ বল। ১১তম ওভারে এসে সুদর্শনকে (৩০ বলে ৩৯) ফিরিয়ে ৯৩ রানের জুটি ভাঙেন মাহেশ তিকশানা। তবে তাতে খুব একটা সুবিধা হয়নি রাজস্থানের।
দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে রাজস্থানের বোলারদের শাসন করতে থাকেন গিল ও জস বাটলার। ১৫.১ ওভারেই দুজনে দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ১৭তম ওভারে এসে গিলের তাণ্ডব থামান তিকশানা। ৫০ বলে ৫টি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৮৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন গুজরাত অধিনায়ক। চার নম্বরে নামা ওয়াশিংটন সুন্দর অবশ্য ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। ৮ বলে ১৩ রান করে সন্দীপ শর্মার বলে ফিরে যান। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে রাহুল তেওযাতিয়াকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন জোফ্রা আর্চার। ৪ বলে মাত্র ৯ রান করেন রাহুল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান তোলে গুজরাত। জস বাটলার ২৬ বলে ৫০ এবং শাহরুখ খান ২ বলে ৫ রান করে অপরাজিত থেকে যান। রাজস্থানের হয়ে মাহেশ তিকশানা চার ওভারে ৩৫ রান খরচ করে ২ উইকেট ঝুলিতে পোরেন।
জয়ের জন্য ২১০ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করে দেন যশস্বী জয়সোয়াল ও ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। সেই তাণ্ডবে লাইন-লেংথ হারিয়ে ফেলেন গুজরাতের মোহাম্মদ সিরাজ-ইশান্ত শর্মা-ওয়াশিংটন সুন্দর-করিম জানাতরা। মাত্র ১৭ বলেই চলতি আইপিএলে দ্রুততম অর্ধশতরান তুলে নেন বৈভব। তার মধ্যে ইশান্ত শর্মার এক ওভারেই নিয়ে নেন ২৮ রান। মাত্র ৭.৪ ওভারে ১০০ রানের গণ্ডি পার করে যায় রাজস্থান। অর্ধশতরানের পরে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বৈভব। করিম জানাতের এক ওভারে তিন ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে ৩০ রান তুলে শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান। ৬২ বলেই ১৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় রাজস্থান। সাতটি চার ও ১১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৫ বলেই শতরানে পৌঁছে যান বৈভব। তবে শতরানের পরেই প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। পরের ওভারে ফিরে যান নীতীশ রানাও ৪ বলে ২)।
এর পরে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন যশস্বী জয়সোয়াল ও অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। চার হাঁকিয়ে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন যশস্বী। অর্ধশতরান পূর্ণ করতে তিনি নেন ৩১ বল। শেষ পর্যন্ত হেসেখেলে ১৫.৫ ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে জয় হাসিল করে রাজস্থান। যশস্বী ৪০ বলে ৭০ এবং রিয়ান পরাগ ১৫ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন।