নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর: রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে কার্যত প্লে-অফ নিশ্চিত করল পঞ্জাব কিংস। রবিবার (১৮ মে) জয়পুরের সোয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান তোলেন শ্রেয়স আইয়াররা। জবাবে সাত উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানেই থমকে যান সঞ্জু স্যামসনরা। ফের একবার জেতা ম্যাচ কী করে হাতছাড়া করতে হয়, তার নিদর্শন রাখলেন রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যরা। এদিন জয়ের সুবাদে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে গেল পঞ্জাব কিংস।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। কিন্তু শুরুতেই রাজস্থানের পেসারদের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পঞ্জাব। দ্বিতীয় ওভারে আউট হন প্রিয়াংশ আর্য (৯)। তৃতীয় ওভারে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন বদলি হিসাবে দলে যোগ দেওয়া মিচেল ওয়েন। পরের ওভারের প্রথম বলে সাজঘরের পথ ধরেন প্রভসিমরান সিংহ (১০ বলে ২১)। ৩৪ রানে তিন উইকেট হারানোয় থরহরিকম্প শুরু হয় পঞ্জাব শিবিরে। চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে রাজস্থানের বোলারদের সামনে প্রতিরোধের পাহাড় গড়ে তোলেন নেহাল ওয়াধেরা ও শ্রেয়স আইয়ার। দুজনে দলকে শতরানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। পঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়সকে (২৫ বলে ৩০) ফিরিয়ে ৭১ রানের জুটি ভাঙেন রিয়ান পরাগ।
পঞ্চম উইকেটে নেহাল ও শশাঙ্ক সিংহ মিলে ৫৮ রান যোগ করেন। ১৬তম ওভারে নেহালের (৩৭ বলে ৭০) তাণ্ডব থামান আকাশ মাধওয়াল। এর পরে আজমাতুল্লাহ ওমরজাই ও শশাঙ্ক ঝড় তোলেন। ২৪ বলে দুজনে ৬০ রান যোগ করে দলকে ২১৯ রানে পৌঁছে দেন। শশাঙ্ক ৩০ বলে ৫৯ এবং ওমরজাই ৯ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। রাজস্থানের সফলতম বোলার তুষার দেশপাণ্ডে। তিনি ৩৭ রানে দুই উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ২২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করেন রাজস্থানের দুই ওপেনার যশস্বী জয়সোয়াল ও বৈভব সূর্যবংশী। তবে যশস্বীর চেয়েও বেশি আগ্রাসী ছিলেন বিস্ময় প্রতিভা বৈভব। ১৫ বলে চারটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৪০ রান করে হরপ্রীত ব্রারের বলে সাজঘরে ফেরেন। এর পরে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে যশস্বী ও রাজস্থান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন দলকে একশো রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন।৯টি চচার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ২৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন যশস্বী। যদিও অর্ধশতরান পূর্ণের পরেই হরপ্রীত ব্রারের বলে ফিরে যান। সঞ্জু স্যামসন মাত্র ২০ রান করে ফেরেন। রিয়ান পরাগও দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি। তিনি ১০ বলে ১৪ রান করে ফেরেন। ফলে খানিকটা হলেও ব্যাকফুটে চলে যায় রাজস্থান।
পঞ্চম উইকটে সিমরান হেইটমায়ারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান ধ্রুব জুরেল। যদিও হেইটমায়ার অকারণে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে দলের উপরে চাপ বাড়ান। তিনি ফেরেন ১১ বলে ১১ রান করে। শেষ দুই ওভারে রাজস্থানের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৮ রান তুলতে সক্ষম হয় রাজস্থান। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২২ রান। ওই রান তোলা দূর অস্ত। উল্টে মার্কো জানসেনের বলে পর পর সাজঘরে ফেরেন ধ্রুব জুরেল (৩০ বলে ৫৩) ও ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গা (০)। শেষ দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন কোয়েনা মাফাকা।