নিজস্ব প্রতিনিধি, দিঘা : পুরীর মন্দিরের রীতি মেনে দিঘায় জগন্নাথ দেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠা। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই দিঘায় জগন্নাথদেবের মন্দিরের দ্বারোদঘাটন। পুরীর নিয়ম মেনেই উদ্বোধনের পর চন্দনযাত্রা, প্রভুর সাজ, প্রভুর ভোগের আয়োজন করা হয়েছে।পুরীর ধ্বজার নিয়ম মেনেই দিঘাতেও ধ্বজা লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ধ্বজা পরিবর্তনের জন্য ৩জনকে ঠিক করা হয়েছে। পুরীতে বংশ পরম্পরায় তাঁরাই ধ্বজা পরিবর্তন করেন।এবার তাঁদের জন্য বিমার ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিদিন বিকেলে ধ্বজা পরিবর্তন করা হবে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে মহাযজ্ঞের শেষে পুরীর মন্দিরের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ধ্বজা তুলে দেন রাজেশ দ্বৈতাপতি। মুখ্যমন্ত্রী সেই ধ্বজা তুলে দেন অভিজ্ঞ ধ্বজা উত্তোলক বিভূতি দাসের হাতে। নিয়ম মেনে তিনিই মন্দিররের চূড়ায় উঠে ধ্বজা লাগান। তিনি নিচে নামতেই মাথাপিছু তাঁদের জন্য ১০ লক্ষ বিমার ঘোষণা করেন। তিন ধ্বজা উত্তোলকই এসেছেন পুরী থেকে।
মঙ্গলবারের পর বুধবারও মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। ওই যজ্ঞে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সোনা, রূপো এবং তামার তার দিয়ে। প্রধান পুরোহিতের কোমরের সঙ্গে বাঁধা হয় তিন ধাতুর ‘কার’। তারপর বিগ্রহের সামনেই মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে যজ্ঞকুণ্ড এবং কুম্ভকুণ্ড স্থাপন করা হয়।এই সকল কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে শুরু প্রভু জগন্নাথের প্রাণপ্রতিষ্ঠার কাজ। শুধু জগন্নাথদেব নয়, রাধাকৃষ্ণের মূর্তিতেও প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। ইসকন থেকে আসা সন্ন্যাসীরাই প্রাণস্থাপন করবেন প্রস্তর মূর্তিতে। পাশাপাশি কাঠের জগন্নাথ মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন পুরীর মন্দিরের রাজেশ দ্বৈতাপতি সহ তাঁর সঙ্গে থাকা পুরোহিতেরা। দরজা বন্ধ করেই জগন্নাথ দেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়। ৫৬ ভোগ অর্পণ করা হয় জগন্নাথের উদ্দেশে।