আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সমাবেশে হিন্দুবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন। সেই ভিডিও ভাইরালও হয়েছে। মুনিরের বক্তৃতায় হিন্দু ধর্মের প্রতি ঘৃণা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রবাসী পাকিস্তানিদের প্রথম বার্ষিক সমাবেশ চলতি বছরের ১৩-১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৬ই এপ্রিল আসিম মুনির এই সম্মেলনে ভাষণ দেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সহ পাকিস্তানের সকল প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের মর্মান্তিক বিভাজনের কথা উল্লেখ করে জেনারেল মুনির বলেন, পাকিস্তানের গল্প আমাদের শিশুদের বলা উচিত। যাতে তারা পাকিস্তানের গল্প ভুলে না যায়।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, যিনি এক বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য অসংখ্যবার বিশ্বব্যাংকের কাছে আবেদন করেছিলেন, তিনি তার বক্তৃতায় একই বিষয় উত্থাপন করেছেন যা পাকিস্তানিরা সবসময় উত্থাপন করে আসছে। সেই বিষয়টি ছিল হিন্দুদের প্রতি ঘৃণা।
পাকিস্তানে ‘মোল্লা জেনারেল’ নামে পরিচিত আসিম মুনির বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা ভাবতেন যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা হিন্দুদের থেকে আলাদা। আমাদের ধর্ম আলাদা, আমাদের রীতিনীতি আলাদা, আমাদের ঐতিহ্য আলাদা, আমাদের চিন্তাভাবনা আলাদা, আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আলাদা। এখানেই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল। আমরা দুটি জাতি, আমরা এক জাতি নই।”
মুনির আরও বলেন, “এই দ্বি-জাতি তত্ত্বকে মাথায় রেখেই আমাদের পূর্বপুরুষরা সংগ্রাম করেছেন, নিরন্তর সংগ্রাম করে এই দেশটি তৈরি করেছেন। আমি এই দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছি।”
দ্বিজাতি তত্ত্বের সমর্থক মুনির, বাংলাদেশ কীভাবে পাকিস্তান গঠনের মাত্র কয়েক বছর পরেই আলাদা হয়ে যায় তা উল্লেখ কিন্তু করতে ভুলে গিয়েছেন। জেনারেল আসিম মুনির বিদেশে পাকিস্তানিদের উপার্জন দেখে আনন্দিত। তিনি বলেন, “আপনারা যেভাবে আপনার দেশে অবদান রাখছেন, অর্থ পাঠাচ্ছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বিনিয়োগ করছেন, তা প্রমাণ করে আপনাদের দেশপ্রেমের। প্রবাসী পাকিস্তানিরা ভিন্ন সংস্কৃতিতে বাস করেন, কিন্তু আপনাদের কখনওই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে আপনারা একটি উন্নত আদর্শের মানুষ।'”
এরপর তিনি মুনির ইকবালের একটি কবিতা আবৃত্তি করে অত্যন্ত আবেগঘন সুরে বলেন, “আমার ভাই ও বোনেরা, ছেলে ও মেয়েরা, পাকিস্তানের এই গল্পটা কখনো ভুলো না। তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এটা বলো। যাতে তারা পাকিস্তানের সাথে তাদের সংযোগ অনুভব করতে পারে। তৃতীয় প্রজন্ম, চতুর্থ প্রজন্ম বা পঞ্চম প্রজন্ম যাই হোক না কেন, এটা কখনওই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তাদের জানা উচিত পাকিস্তান তাদের জন্য কী।”
পাকিস্তান গঠনের গল্পে সহিংসতা ও দাঙ্গার গল্পকে চাপা দিয়ে এবং সমগ্র ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ধর্মীয় রঙ দিয়ে আসিম মুনির বলেন যে, পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল কলমাকে ভিত্তি করে।
তিনি বলেন, “আজ পর্যন্ত, মানবজাতির ইতিহাসে মাত্র দুটি রাজ্য কলমাকে ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। প্রথমটির নাম ছিল রিয়াসাত-এ-তৈয়বা- আজ যাকে মদিনা বলা হয়। দ্বিতীয় রাজ্য পাকিস্তান যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।”
মুনির গাজায় ইজরায়েলি সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে বলেন, “পাকিস্তানিদের হৃদয় গাজার মুসলমানদের সাথে স্পন্দিত।”
দেউলিয়া হয়ে যাওয়া পাকিস্তানের অর্থনীতিকে প্রবাসী পাকিস্তানিরা ডলার পাঠিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আসিম মুনির নিজের বক্তৃতায় জম্মু ও কাশ্মীরের একই পুরনো ইস্যু উত্থাপন করেন এবং এটিকে পাকিস্তানের শিরপীড়া বলে অভিহিত করেন।