নিজস্ব প্রতিনিধি : বাঙালি ১২ মাসই ঘুরতে যেতে পছন্দ করে। শীত, বর্ষা, গরম কোনও ঋতুতেই তার বিরাম নেই। দু-তিন দিনের ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই লাগেজ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়তে মানা নেই। পাহাড় হোক বা সমুদ্র সবসময়ই হাতছানি দেয়। সেই হাতছানিকে এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে সিকিম বাঙালির কাছে খুবই পছন্দের। হিমালয়ের কোলে থাকা এই ছোট্টো রাজ্যটি নিজের সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে অপেক্ষা করে পর্যটকদের জন্য।
রাজ্যটির রূপ ঋতু অনুযায়ী বদলায়। শীতে তার এক রূপ, বর্ষার জলে ভিজে এক অন্য রূপ ধারন করে সে। প্রকৃতি নিজের রূপের আকর্ষণে পর্যটককে বারংবার টেনে আনে নিজের কাছে। তবে অক্টোবর, নভেম্বর সিকিম ঘোরার জন্য আদর্শ সময়। এপ্রিল-মে মাসও বহু মানুষ তীব্র গরম থেকে রেহাই পেতে হাজির হন সামান্য শীতল ছোঁয়া পেতে। এই সময় যেমন ঠান্ডার হাড়কাঁপুনি অনুভূত হয় না, ঠিক তেমনই হাড় জ্বালানো গরমও থাকে না। এপ্রিল মে মাসে সিকিম ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে কোন কোন জায়গা তালিকায় থাকবে একবার দেখে নিন।
গুরুদোংমার
উত্তর সিকিমের সৌন্দর্যের টানে ফিরে ফিরে আসেন পর্যটকরা। তবে এখানকার অন্যতম আকর্ষণ ১৭ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত গুরুদোংমার হ্রদ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল গুরুদোংমার যাত্রা। শীতে রাস্তা বরফে আটকে গেলেও এই হ্রদে যাওয়া যায় না। ফলে মার্চ মাসের শেষ থেকে মে-জুন মাসের শুরু পর্যন্ত ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তালিকায় রাখতে পারেন এটি। গুরুদোংমার-র পাশাপাশি ঘুরে নেওয়া যায় কালা পাত্থর। কালো রঙের পাহাড়ের উপর সাদা তুষারের ন্যায়ে যে বৈপরীত্য তা অতুলনীয়। গুরুদোংমার যাওয়ার পাসপোর্ট ছবি এবং ভোটার কার্ড প্রয়োজন হয়। কারণ এই এলাকায় যেতে গেলে প্রয়োজন অনুমতির। এখানে যেতে গেলে প্রথম যেতে হবে লাচেন। সেখানে থেকেই সব জায়গা ঘোরানো হয়।
ইয়ুমথাং
তালিকায় রাখতে পারেন ইয়ুমথাং। লাচুং থেকে ঘোরা যায়। মে এবং জুন মাসে উপত্যকা রঙিন ফুলে ভরে থাকে। সাদা বরফের উপত্যকা সবুজে ভরে ওঠে। উপত্যকতার ফুলের স্বর্গীয় শোভা দেখতে চাইলে মে মাসই আদর্শ সময়। জুন মাস পর্যন্ত তা দেখা যায়। ইয়ুমথাং থেকে ঘুরে নেওয়া যায় জিরো পয়েন্ট। ২-৩দিন থাকলে লাচুং এবং ইয়ুমথাঙের রূপ ভাল ভাবে উপভোগ করা যায়।
তারেভির
দক্ষিণ সিকিমের ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ তারেভির। এ রাজ্যের অন্যান্য স্থানের চেয়ে তারেভির আলাদা নিজস্ব রূপের জন্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ১০ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের প্রায় মাথা দিয়ে একদম শেষ পর্যন্ত চলে গিয়েছে লম্বা পথ। পথের ধারে রয়েছে পাইন বন। অন্য ঘাসের গালিচা।
ইয়কসম
চেনা গণ্ডির বাইরে বেরোতে চাইলে যেতেই পারেন ইয়কসম।প্রকৃতির সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে সে অপেক্ষা করছে পর্যটকদের জন্য। সিকিমের পশ্চিম প্রান্তে এর অবস্থান। গোয়েচা-লা ট্রেকের সূচনা হয় ইয়কসম থেকে। পাখিদের স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত এটি।
জঙ্গু
উত্তর সিকিমের আর একটি জায়গা হল জঙ্গু। এখানে যেতে গেলেও আগাম অনুমতির প্রয়োজন হয়। এখান থেকে যেতে পারেন লিংজা জলপ্রপাত, লিংডেম উষ্ণ প্রস্রবণ, লিংথেম বৌদ্ধমঠ, টিংভং গ্রাম। এখানে বসবাস করেন লেপচা জনজাতির মানুষ। জঙ্গল, আধ্যাত্মিকতা, লেপচাদের ধর্মীর বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে এই স্থান জুড়ে।