নিজস্ব প্রতিনিধি: ট্রেন অপারেটর নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে পুনরায় প্রত্যাহার করে নিল কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে শুরু হয়েছে জনমানসে বিবিধ ভাবনা চিন্তা। বর্তমান সময়ে কলকাতার বুকে মেট্রোর কোনও বিকল্প নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম মেট্রো। এদিকে কলকাতা মেট্রোয় ক্রমশ বাড়ছে চালকের সঙ্কট। চলতি মাসের শেষে অন্তত ১৩ জন মোটরম্যান বা মেট্রোচালকের অবসর নেওয়ার কথা।
বর্তমানে কলকাতা মেট্রোয় উত্তর-দক্ষিণ (ব্লু লাইন), ইস্ট-ওয়েস্ট (গ্রিন লাইন ১ এবং ২), জোকা-মাঝেরহাট (পার্পল লাইন) এবং নিউ গড়িয়া-রুবি (অরেঞ্জ লাইন) পথে পরিষেবা চালু রয়েছে। নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো বেলেঘাটা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার কথা খুব তাড়াতাড়ি। তাছাড়াও মেট্রো পরিষেবা শুরু হতে পারে নোয়াপাড়া-বিমানবন্দরের (ইয়েলো লাইন) মধ্যেও। শিয়ালদহ থেকে এসপ্লানেড পর্যন্ত মেট্রো রুটও চলতি বছরেই জুড়ে যাওয়ার কথা। হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পথেও মেট্রো চলার কথা।
এতগুলি পথে মেট্রো চলাচল শুরু হলে চালকের চাহিদা আরও বাড়বে। এদিকে এতজন চালক অবসর নিচ্ছেন। যদিও ২০২৪ সালে দক্ষিণ-পূর্ব রেল থেকে ২৫ জন চালককে আনতে পেরেছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে। পাশাপাশি মেট্রোর ইয়ার্ডে ট্রেন শান্টিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কয়েক জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে চালক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু এত কাঠখড় পুড়িয়েও মেট্রোর চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে সমতা বজায় থাকবে কিনা তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে।
হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যে সংখ্যক ট্রেন বাড়ানো হয়েছে সেখানে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন চালকের প্রয়োজন। এখন সেখানে রয়েছেন ৩৫ জন চালক। এই আবহে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া চুক্তিভিত্তিক ট্রেন অপারেটরদের দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চালানোর কথা আগে ভাবা হয়েছিল।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ অবশ্য নিজেদের সংশয় নিয়ে নিজেরাই মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ইস্ট-ওয়েস্ট ছাড়াও নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর এবং জোকা-মাঝেরহাট মেট্রোপথে রেডিয়ো তরঙ্গ নির্ভর সিগন্যালিং ব্যবস্থা থাকছে। এই ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে। ফলে, চালকের সেই অর্থে দায়িত্ব থাকবে না। পরিবর্তে ভবিষ্যতে ট্রেন অপারেটর কাম স্টেশন কন্ট্রোলার পদে মেট্রো কর্তৃপক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে চাইছে।