নিজস্ব প্রতিনিধি, মিরাট: পরকীয়ার পথে থাকা কাঁটা দূর করতে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী। তারপর স্বামীর দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভোরে তাতে সিমেন্ট ঢেলে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে চলে গেল অনিন্দ্যসুন্দর হিমাচলে। মিরাটের এই নৃশংসতা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এখন ভাইরাল। এই ঘটনা আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে মানুষ কতখানি ভয়ঙ্কর হতে পারে। স্বামী সৌরভ রাজপুত, স্ত্রী মুস্কান রাস্তোগি। মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত মিরাটের বাসিন্দা সৌরভ রাজপুত যখন লন্ডন থেকে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন, তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে স্ত্রী মুসকান তাঁর বিরুদ্ধে কী ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করছে। মুসকানের মা পুলিশকে পুরো ঘটনাটি জানালে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ পায়। আসল ঘটনা কী ছিল?
সন্তানের এই কীর্তিতে অবাক হয়ে গিয়েছেন মুসকানের মা স্বয়ং। তিনি পুলিশের কাছে জানিয়েছেন সব কথা। মুসকান প্রতিবেশীদের কাছে বলতে শুরু করেছিল যে সে সৌরভের সাথে বেড়াতে যাচ্ছে। এরপর সৌরভকে হত্যা করে ঘর তালাবদ্ধ রেখে প্রেমিক সাহিলের সঙ্গে হিমাচল চলে যায়। সেখানে মধুচন্দ্রিমা কাটানোর সময় মুসকান এবং সাহিল সৌরভের অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় লক্ষ টাকা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
এরপর মুসকান মায়ের কাছে গিয়ে টাকা চায়। মা যখন সৌরভের কথা জিজ্ঞাসা করেন, তখন মুসকান আর মিথ্যে বলতে না পেরে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি খুলে বলে। মেয়ে এমন কাজ করতে পারে তা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না মুসকানের মা। শেষ পর্যন্ত তিনিই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশি জেরার মুখে মুসকান নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে। মুসকান এবং সাহিলকে নিয়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালালে ঘরের ভেতরে থাকা ড্রাম থেকে সৌরভ রাজপুতের দেহাংশ উদ্ধার হয়।
৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে মিরাটের ব্রহ্মপুরী থানা এলাকার ইন্দিরানগরে থাকতেন সৌরভ রাজপুত তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি। ২০১৬ সালে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। সৌরভের পোস্টিং ছিল লন্ডনে। কিছুদিন আগে তিনি মিরাটে আসেন। তারপরই স্ত্রী ও তার প্রেমিকের নৃশংসতার শিকার হন। পুলিশ মুসকান ও সাহিলকে গ্রেফতার করেছে। এরা ছাড়া আরও কেউ এই অপরাধে জড়িত ছিল কিনা তাও জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। প্রতিবেশীরা ভাবতেই পারছেন না যে মুসকানকে তাঁরা এত বছর ধরে চেনেন সে নিজের স্বামীকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে পারে।