পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পুজো হয়ে থাকে বসন্ত পঞ্চমী তিথিতে। এমনটা বললে মন্দ হবে না যে, দেবী সরস্বতী বিদ্যার পাশাপাশি প্রেমের দেবীও । কারণ, পুরাণ মতে তাঁর অপরূপ রূপে ও গুনে মুগ্ধ হয়ে প্ৰেমে পড়েছিলেন স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা। জানা যায়, এই দিনটি শুধুমাত্র বাগদেবীর আরাধনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিগত বহু বছর ধরেই বাংলার তরুণ তরুণীদের কাছে এই দিনটির আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কলকাতায় এই দিনটি বিশেষভাবে রঙিন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়। এই উৎসবকে অনেকেই ‘বং ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ (Bong Valentines Day) বলে থাকেন, কারণ এই দিনে প্রেম, বন্ধুত্ব ও একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের এক অনন্য আবহ তৈরি হয়। তবে, সরস্বতী পুজোর দিনটিকে বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে বলার কারণ জানেন কী ?
এই দিনে শুধুমাত্র এই তিলোত্তমা কলকাতা নয়, গোটা বাংলা জুড়েই এক রোমান্টিক পরিবেশ বিরাজ করে। বাংলার তরুণী কিশোরীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুন্দর সুন্দর হলুদ রঙের শাড়ি পরে, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পড়ে কিশোর তরুণেরা। এরপর যে যার প্রেমিকা বা বান্ধবীদের সাথে নিয়ে বিদ্যাদেবীর পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। স্কুল পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে ছেলেরা মেয়েদের স্কুলে গিয়ে আড্ডা দেওয়া আর, মেয়েরা ছেলেদের স্কুলে আসার একটা দীর্ঘ কালের ট্রেডিশন অব্যাহত রয়েছে। সর্বোপরি এই সরস্বতী পুজো এমন একটি দিন, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক নিয়ম সম্পর্কে চিন্তা না করেই একসঙ্গে কথা বলতে, একসঙ্গে খেতে, ছবি তুলতে এবং মজা করতে পারে। এছাড়া এই বিশেষ দিনে শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে, নিজেদের স্কুল জীবন উপভোগ করতে এবং তাদের নিয়মিত স্কুল জীবন থেকে বিরতি নিতে পারে। এমনকী, এই দিনটিতে কিছু ক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রেমিক তরুণ তার পছন্দের তরুণীটিকে প্রেম নিবেদন করতেও পিছপা হয় না।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ভ্যালেন্টাইন্স ডে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পড়েছে। তবে, এর আগে ভ্যালেন্টাইন্স উইক শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। রোজ ডে থেকে শুরু হয় এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবসে গিয়ে শেষ হয়। প্রতিটি দিনের একটি থিম থাকে, যেমন প্রপোজ ডে, চকলেট ডে, টেডি ডে এবং অন্যান্য, যাতে মানুষ তাঁর পছন্দের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে।