নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন স্বামী বিবেকাননন্দ। সন্ন্যাস নেওয়ার আগে নরেন্দ্র নাথ দত্ত নামে পরিচিত ছিলেন। বাড়িতে তিনি ছিলেন সকলের ‘বিলে’। কলকাতার সিমলা স্ট্রিট নিবাসী মহান এই বীর বাঙালি জাতি ও হিন্দু ধর্মকে বিশ্বের মঞ্চে তিনিই প্রথম প্রতিষ্ঠিত করেন। শিকাগোর সেই ধর্ম সভার কথা সবার জানা। বাঙালি তথা দেশবাসীর কাছে বিবেকানন্দ হলেন এক আবেগের নাম।
সকলের প্রিয় এই বাঙালি ছিলেন ভোজনরসিক মানুষ। খেতে এবং খাওয়াতে- দুই-ই পছন্দ করতেন তিনি। রান্না করতেও বেশ ভালোবাসতেন । ২০০৩ সালে বাঙালি উপন্যাসিক শঙ্কর ‘জানা অজানা বিবেকানন্দ‘ বলে একটি বই লেখেন। সেখানেই স্বামীজির প্রিয় খাবার সম্বন্ধে বিশদে জানা যায়।
জানা যায়, শিশুকাল থেকেই নরেন্দ্রনাথ মাছ-মাংস খেতে ভালোবাসতেন। শ্রীরামকৃষ্ণও জানতেন সেই কথা। সেই সঙ্গে কচুরির প্রতি ভালোবাসাও ছিল তাঁর। কলকাতার বিভিন্ন দোকান থেকে তিনি কচুরি আনিয়ে খেতেন বলেও জানা যায়। বিদেশে থাকাকালীন বাড়ির বেসমেন্টে বসেই বানিয়ে ফেলতেন কচুরি। শিকাগো যাত্রার আগে তৎকালীন বোম্বাইতে স্বামীজি ১৪ টাকা খরচ করে এক হাঁড়ি পোলাও রান্না করেন শিষ্যদের খাইয়েছিলেন। কই মাছ তাঁর প্রিয় খাবারের আরও একটি। মৃত্যুর দিনেও স্বামী বিবেকানন্দ দুপুরে ভাত আর ইলিশ মাছের ঝোল খেয়েছিলেন বলে জানা যায়। আম, আপেল, লিচু ও পেয়ারা পছন্দ করতেন ৷ জল খাবারের পর কমলালেবু, আঙুর খেতে ভালোবাসতেন। সন্ধে ৬.৩০ টার মধ্যেই তাঁকে নৈশভোজ দেওয়া হত। অবসরে রান্নাবান্নায় সাহায্য করতেন তিনি, সবজি ও রুটি করতে ভালোবাসতেন বলে জানা যায়।
এছাড়াও ঝাল খেতেও অতি ভালোবাসতেন। অসুস্থ থাকার সময় খিচুড়িতে মিষ্টি দেওয়া হয়েছে বলে লঙ্কা চিবিয়ে খেতেন। এমনকী লন্ডনে তিনি লঙ্কা কিনে খেয়েছিলেন। আবার আইসক্রিম ছিল তাঁর প্রিয়। ১৮৯৩ সাল আমেরিকা সফরে তাঁর আইসক্রিম প্রীতির কথা জানা যায় ৷ সেই সঙ্গে পছন্দের তালিকায় ছিল মিষ্টিও। ভাত, ডাল, মাছ, সবজি, দুধ, মুড়ি, আলুভাজা তাঁর পরবর্তী সময়ে প্রিয় ছিল ৷ এছাড়াও মা ভুবনেশ্বরীদেবীর হাতের যে কোনও রান্নাবান্না অত্যন্ত পছন্দ করতেন স্বামীজি।