নিজস্ব প্রতিনিধি : সিডনিতে হারের ফলে ২০১৪-১৫ মরসুমের পর প্রথম বার ট্রফি হাতছাড়া হল ভারতের। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হারল ভারতীয় দল। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ মরসুমের পর প্রথম বার বর্ডার-গাওস্কর ট্রফি জিতল ক্যাঙ্গারু দল। ১০ বছর পর বর্ডার-গাভাস্কর সিরিজ হাতছাড়া হল ভারতের। একইসঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড় থেকেও ছিটকে গেল ভারত। আসলে শেষ ৮ টেস্টের মধ্যে ৬টিই হারতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে। কিন্তু কেন এই ব্যর্থতা ? বারবার প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেট মহলে। তবে এর নেপথ্যে উঠে আসছে একাধিক কারণ। এই কারণ গুলো বিশ্লেষণ করলে যা দাঁড়ায় তা হল
ভুল দল নির্বাচন : গম্ভীর জামানায় দল নির্বাচন নিয়ে একটা বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। কোচ গম্ভীরের কেকেআরের ক্রিকেটারদের প্রতি দুর্বলতা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিস্তর কাঁটাছেড়া সমস্যা হল দলের কম্বিনেশনেই। গোটা বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতেই ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢাকতে অলরাউন্ডারদের দিকে ঝুঁকেছে ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে শুধু অলরাউন্ডার দিয়ে কাজ চলে না। স্পেশ্যালিস্ট দরকার। মনে রাখতে হবে টেস্ট জিততে হলে বিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে শেষ টেস্টে খারাপ ফর্মের জেরে অধিনায়ক রোহিত শর্মা নিজেই বসে গেলেন। সমস্যা হল, রোহিত যতই দলের স্বার্থের কথা বলুন, এটাও ঠিক অধিনায়ক নিজেই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালানোর মানসিকতা দেখালে সেটার প্রভাব দলের অন্য ক্রিকেটারদের উপরও পড়ে। এটাও একটা ব্যর্থতার বড় দিক হতে পারে।
ব্যাটিং ব্যর্থতা : লালবলের ক্রিকেটে ভারতের অধিকাংশ ব্যাটার ফর্মে নেই। শেষ ১৫ টেস্ট ইনিংসে রোহিত শর্মা মোটে ১৬৭ রান করেছেন। মেলবোর্নের একটি সেঞ্চুরি বাদ দিয়ে একই অবস্থা বিরাট কোহলির। কে এল রাহুল, শুভমান গিলরা ধারাবাহিক নন। ঋষভ পন্থের ও একই অবস্থা। ব্যাটারদের লাগাতার এই ব্যর্থতা বাড়তি চাপ তৈরি করছে বোলারদের উপর।
বুমরাহ নির্ভরতা: দুঃখজনক হলেও সত্যি ভারত যে বোলিং লাইন-আপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল সেটা আর যা-ই হোক বিশ্বমানের নয়। শেষ টেস্ট বাদ দিলে গোটা সিরিজে ভারতের বোলিং বিভাগকে কার্যত ওয়ান ম্যান আর্মি মনে হয়েছে। অতিরিক্ত বুমরা নির্ভরতা কাল হয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের জন্য। একজননের উপর এত প্রত্যাশা করাও ভুল।
আরও পড়ুন : রোহিত-কোহলির অবসর নিয়ে মুখ খুললেন ‘গুরু’ গম্ভীর, কী বললেন?
ড্রেসিংরুম সুখী নয় : বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি চলাকালীন ভারতীয় ড্রেসিং রুম থেকে একের পর এক খবর প্রকাশ্যে এসেছে। শোনা গিয়েছে, ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর নাকি সাজঘরে গিয়ে ক্রিকেটারদের বকাঝকা করেছেন। আবার শোনা গিয়েছে রোহিতের ফর্ম খারাপ হওয়ার পর দলে ঐক্যের ঘাটতি পড়েছে। অবশ্য এই খবর সত্য না মিথ্যে তা জানা যায় নি। তবে সিরিজের মাঝপথে অশ্বিন যেভাবে অবসর নিলেন, শেষ ম্যাচে রোহিত যেভাবে নিজেকে সরিয়ে নিলেন, সেগুলি মোটেই ভালো বার্তা ছিল না।