নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হানার পরেই পাকিস্তানের মাটিতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এবার পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে আরও কড়া সিদ্ধান্ত নিল। পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা এড়াতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পুরুষদের এশিয়া কাপ প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিল। শুধু পুরুষদেরই নয়, মহিলাদের এমার্জিং এশিয়া কাপ থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিসিসিআইয়ের তরফে এ বিষয়ে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (এসিসি) চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ঠ জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারান। তার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। নিরীহ পর্যটকদদের মৃত্যুর বদলা নিতে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং পাকিস্তানের একাধিক সন্ত্রাসী ডেরা গুঁড়িয়ে দেয়। ওই প্রত্যাঘাতের পাল্টা হিসাবে ভারতীয় সীমান্ত শহরগুলোতে ড্রোন ও বিমান হামলার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানি সেনা। যা ব্যর্থ করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। আপাতত সঙ্ঘাত এড়াতে দু্ই দেশই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু কতদিন ওই যুদ্ধবিরতি চলবে তা অনিশ্চিত।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং জঙ্গিদের সমর্থনে পাকিস্তানি সেনার হামলার পরেই সুনীল গাভাসকার-সহ প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটাররা সুর চড়িয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা বয়কটের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবি মেনে পুরুষ ও মহিলাদের এশিয়া কাপ ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড কর্তা বলেছেন, ‘ভারতীয় দল এমন কোনও টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে না যা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আয়োজন করবে এবং যার প্রধান হলেন পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী মহসিন নাকভি। গোটা দেশের মানুষ চায় না, ভারত আর পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলুক। দেশবাসীর সেই আবেগকে সম্মান জানিয়ে আসন্ন এশিয়া কাপ থেকে আমাদের প্রত্যাহারের বিষয়ে আমরা মৌখিকভাবে এসিসিকে জানিয়েছি এবং তাদের ইভেন্টগুলিতে আমাদের ভবিষ্যতের অংশগ্রহণও স্থগিত রেখেছি। আমরা ভারত সরকারের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছি।’
উল্লেখ্য, চলতি বছর এশিয়া কাপ ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং পরের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা বিবেচনা করে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে প্রতিযোগগিতার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত ২০২৩ সালে শেষ বার এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার পাকিস্তান প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল। কিন্তু রোহিত শর্মারা পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে যাননি। ভারতের ম্যাচগুলো হাইব্রিড মডেলে শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজিত হয়েছছিল। কলম্বোয় ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন রোহিত শর্মারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এশিয়া কাপের বেশিরভাগ স্পনসর যেহেতু ভারতের, তাই বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগিতা বাতিল হতে পারে।