নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পদে শীর্ষ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বি রামাসুব্রহ্ম্যনিয়মকে নিয়োগ করায় আপত্তি জানাল কংগ্রেস। গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পদে অবসরপ্রাপ্ত বি রামাসুব্রহ্ম্যনিয়মকে নিয়োগ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই সঙ্গে সদস্য হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল বিতর্কিত বিজেপি নেতা প্রিয়ঙ্ক কানুনগোকে। আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ওই নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একতরফাভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়েছে। যার নাম নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনাই হয়নি তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। গত বুধবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে ডাকা বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের দুই প্রাক্তন বিচারপতি রোহিনটন ফলি নরিম্যান ও কে ম্যাথুজ জোসেফের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠিত হওয়ার পরে ১৯৯৩ সাল থেকে চেয়ারম্যান পদে মূলত সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকেই বসানো রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু মোদি জমানায় সেই রীতি ভাঙা হয়। বিজেপির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসাবে পরিচিত সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অরুণকুমার মিশ্রকে ২০১৬ সালের ২ জুন চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়। যিনি বিচারপতির আসনে থেকে সব শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভজনায় মেতে উঠেছিলেন। বিচার ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছিলেন। গত ১ জুন অবসর নিয়েছেন তিনি। তার পরে ফাঁকাই পড়ে রয়েছে চেয়ারম্যান পদ। দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি চেয়ারম্যান পদ ফাঁকা পড়ে ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাজকর্মও স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত বুধবারই জাতীয় মানবাধিকার দেশের মানবাধিকার রক্ষার শীর্ষ সংস্থার শীর্ষ পদে কাকে বসানো হবে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পৌরাহিত্যে বৈঠকে বসেছিল উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। ওই কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। ওই বৈঠকের পরেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পদে সুপ্রিম কোর্টের সদ্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বসতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। যদিও সেই জল্পনা খারিজ করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নয়া চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বি রামাসুব্রহ্ম্যনিয়মের জন্ম ১৯৫৮ সালের ৩০ জুন। চেন্নাইয়ের বিবেকানন্দ কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক হওয়ার পরে মাদ্রাজ আইন কলেজ থেকে আইনে স্নাতক হন। ১৯৮৩ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিশ শুরু করেন। ২০০৬ সালের ৩১ জুলাই মাদ্রাজ হাইকোর্টের অস্থায়ী বিচারপতি পদে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালের ৯ নভেম্বর স্থায়ী বিচারপতি পদে পদোন্নতি ঘটে। ২০১৯ সালের ২২ জুন হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব পান। ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসাবে শপথ নেন বি রামাসুব্রহ্ম্যনিয়ম। গত বছর ৩০ জুন অবসর নেন তিনি।