নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আদালতে বড় স্বস্তি! অবশেষে মানহানির মামলায় জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতা তথি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। বুধবার (৬ অগস্ট) ঝাড়খণ্ডের চাইবাসা আদালত রাহুলের জামিন মঞ্জুর করেছে। যেটি কিনা একটি মানহানির মামলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল। যাই হোক, পুরো বিতর্কের সূত্র পাত হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ রাহুল গান্ধির একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে। যেখানে তিনি তৎকালীন বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহকে নিয়ে একটি বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলেছিলেন। অবশেষে দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই মামলায় জামিন পেলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা রাহুল গান্ধি। ঝাড়খণ্ডের চাইবাসার MP-MLA আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। এই বিষয়ে, প্রতাপ কাতিহার ২০১৮ সালের ৯ জুলাই চাইবাসা সিজেএম আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন।
জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করার প্রতিবাদে হওয়া এই মামলায় বেশ কয়েকবার সমন পাঠানো হয়েছিল রাহুলকে, কিন্তু রাহুল গান্ধি একবারও আদালতে হাজির হননি। অবশেষে, ২৬ জুন আদালত তার হাজিরার জন্য জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছলি। এরপর রাহুল গান্ধি এই মামলা বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। এই মামলাটি প্রথমে চাইবাসা সিজেএম আদালত থেকে রাঁচির MP-MLA বিশেষ আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, কিন্তু পরে চাইবাসায় এমপি-এমএলএ বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠিত হলে মামলাটি চাইবাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। সবশেষে সেখান থেকে থেকেই জামিন মিলল রাহুল গান্ধির। এদিন কংগ্রেস সাংসদের আইনজীবী বলেছেন, “ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাহুল গান্ধি আদালতে হাজির হন। তিনি জামিন চেয়েছিলেন, যা মঞ্জুর করা হয়েছে। আমরা এখন প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেব।”
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে চাইবাসার এক সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে প্রতাপ কুমার নামে এক ব্যক্তি গান্ধির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। আবেদনে কুমার অভিযোগ করেছিলেন যে, গান্ধির বক্তব্য মানহানিকর এবং শাহের মর্যাদাকে হেয় করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। এদিকে দিন দুয়েক আগে ভারতের চিনের জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিলেন রাহুল গান্ধি। সেই মানহানির মামলার শুনানিতে রাহুলের উদ্দেশ্যে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের প্রশ্ন ছিল, ‘চিন ভারতের ২০০০ স্কোয়ার কিলোমিটার জায়গা দখল করে নিয়েছে? আপনি কী করে জানলেন? আপনি কী সেই সময়ে সেখানে ছিলেন? আপনার কাছে কি বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ আছে? আপনি যদি প্রকৃত অর্থে ভারতীয় হতেন, তাহলে এই মন্তব্য করতে পারতেন না।’ আসলে, ২০২৩ সালে ভারত জোড়ো যাত্রার সময় রাহুল দাবি করেছিলেন যে, তাঁকে নাকি ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন আধিকারিক জানিয়েছিলেন যে, চিনের ভারতের ২০০০ স্কোয়ার জায়গা দখল করে নিয়েছে। সেই মামলাটি এখনও রাহুলের কাঁধে চেপে রয়েছে।