নিজস্ব প্রতিনিধি : হর পত্নী পার্বতীই হল দেবী দু্র্গা। কখনো তিনি আদ্যাশক্তি কখনো বা তিনি জগদ্ধাত্রী কখনো বা মহামায়া রুপে পুজিতা হন তিনি। যিনিই দুর্গা তিনিই অন্নপূর্ণা। সমস্ত অন্নের দেবী তিনি। আবার সংসারের পালিকাও বটে। কখনো তিনি শান্ত কখনো বা দুষ্টদের দমনে চামুণ্ডা রূপী। পৃথক পৃথক রূপে আরাধনা হয় তাঁর। আজ হল শুক্রবার। এই দিনে ভক্তিভরে ডাকলে দেবী দুর্গা প্রসন্ন হন। এইদিনে জানুন হর পত্নীর আরেক নাম অন্নপূর্ণা কেন ?
দেবী পার্বতীরই আরেক রূপ দেবী অন্নপূর্ণা কিংবা অন্নদা। অন্নদাত্রী রূপে কল্পনা করা হয় দেবীকে। দ্বিভুজা অন্নপূর্ণার এক হাতে অন্নপাত্র ও অন্য হাতে হাতা থাকে। দেবীর একপাশে থাকেন ভূমি ও অন্যপাশে থাকেন শ্রী। কেবল মর্তবাসী নয়, স্বয়ং শিবকেও অন্নদান করেন দেবী অন্নপূর্ণাই। পৌরাণিক মতে, হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান কাশীর সঙ্গেও জুড়ে আছেন এই অন্নদাত্রী দেবী।
কৈলাস পর্বতে মহাধুমধাম করে বিবাহ হল হর-পার্বতীর। প্রথমে বেশ সুখেই কাটছিল তাঁদের সংসার। কিন্তু এই সুখ তাঁর সইল না বেশিদিন। দারিদ্র্যের জেরে শুরু হল অশান্তি। কষ্ট সইতে না পেরে কৈলাস ত্যাগ করলেন পার্বতী। দেবীর কৈলাস ছেড়ে চলে যেতেই দেখা দিল ভয়ানক দুর্ভিক্ষ। সকল দেবদেবী মিলে এই বিপদের দিনে উপায় বের করতে মহাদেবের কাছে হাজির হল।
আরও পড়ুন : নেই গণেশ সরস্বতীরা! কেন রায় বাড়িতে ‘কুলোপতি’ নামে পুজিত হন দেবী দুর্গা ?
এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে নিজের কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি তুলে পথে বেরোন দেবাদিদেব মহাদেব। কিন্তু মর্ত্যে কোথাও একফোঁটা অন্ন পেলেন না মহাদেব। খিদেয়-তেষ্টায় করুণ দশা হল ভোলানাথের। অবশেষে তিনি শুনতে পেলেন কাশীতে একজন মহিলা অন্নদান করছেন। পেটের জ্বালায় মহাদেব ছুটলেন কাশীতে। সেখানে গিয়ে চিনতে পারলেন নিজের সহধর্মিণীকে। শেষ পর্যন্ত দেবীর কাছ থেকে মুষ্টিভিক্ষা নিয়েই ভক্তদের খাদ্যের জোগান দেন তিনি। সেইসঙ্গে দেবীর এই অন্নদাত্রী রূপের এক মন্দিরও কাশীতে স্থাপন করেন তিনি। এরপরই কৈলাসে আবারও শান্তি ফিরে আসে। দূর হয় খাদ্যাভাব। শস্যে ভরে ওঠে মর্ত্যোলোক।
মুসলিম ভোগে শুরু পুজো ! নেই আরতি ও পুষ্পাঞ্জলি ! জানেন কী ‘কোদাখাকি দুর্গার’ অজানা কাহিনী