আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অর্থ এবং ক্ষমতা সমস্ত পাপ চাপা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সম্ভবত সেই কারণেই বছরের পর বছর নারীদের ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতন করেও দিব্যি নিরপরাধী হিসেবে পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন মিসরীয় ব্যবসায়ী তথা ধনকুবের আল ফায়েদ(Mohamed Al Fayed)। ৯৪ বছর বয়সে আল ফায়েদের মৃত্যু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। যদিও তাঁর কুকীর্তির তালিকা ইতিমধ্যেই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম যৌন নির্যাতনকারীদের তালিকায় যুক্ত করেছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন নিয়ে মোদি সরকারের পাশেই দাঁড়ালেন মমতা
নিজের জীবদ্দশায় প্রায় ১১১ জন নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করেছেন আল ফায়েদ, ধারণা পুলিশের। বিভিন্ন বয়সের মহিলারাই তাঁর যৌন নিপীড়নের শিকার। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, তাঁর যৌন লালসার হাত থেকে রেহাই পাননি ১৩ বছরের কিশোরীও। বছরের পর বছর এত অপরাধ করেও কিভাবে তিনি ছাড়া পেয়ে গেলেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। জানা গিয়েছে, ২০০৫ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১১১ জন নারীর মধ্যে ২১ জন পুলিশের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আল ফায়েদের বিরুদ্ধে সেরকম কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৭৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আল ফায়েদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-যৌন নিপীড়নে যুক্ত থাকার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি পৃষ্ঠার প্রমাণ পর্যালোচনা করেছে তাঁরা। প্রমাণের মধ্যে ভুক্তভোগীদের বিবৃতিও রয়েছে। নির্যাতিতা এক নারী তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, লন্ডনের পার্ক লেনের একটি বাড়িতে তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন ফায়েদ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে কোনও কাজ হয়নি। এভাবেই দিনের পর দিন নারী নির্যাতন করেও পার পেয়ে গিয়েছেন আল ফায়েদ।