নিজস্ব প্রতিনিধি, যাদবপুর: ইন্টারনাল খাতা না দেখেই নম্বর বসিয়ে দিয়েছেন শিক্ষক। দিন কয়েক আগে এমনই অভিযোগ উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন বিভাগে। প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধানের ঘরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন ছাত্রদের একাংশ। বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল উপাচার্যের ভবনের সামনেও। এবার গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধানের ঘরে তালা ঝোলালেন স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়ারা। এমনকী তালা ঝোলানোর পাশাপাশি গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধানের ঘরের দরজাতেও লাগানো হল পোস্টার। যেখানে লেখা ছিল, ‘ডিপার্টমেন্ট এথিক্স আন্ডার মেনটেন্যান্স’।
এই বিষয়ে এক ছাত্রনেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলছে এহেন অনিয়ম। তাই এর বিরুদ্ধে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়ারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যত দিন প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান এবং বাকিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া হবে, তত দিন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং কোনও ক্লাসও করবেন না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩-২৫ ব্যাচের ‘ল অ্যান্ড এথিক্স’ বিষয়ের ৫০টি খাতা না দেখেই নম্বর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়েই বেশ কয়েকদিন ধরে চলছে জোর বিতর্ক। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন নির্দিষ্ট বিভাগের ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। এর প্রতিবাদে গত সোমবার রাতে উপাচার্যের ঘরের বাইরে অনশনে বসেছিল পড়ুয়াদের একাংশ। শেষে কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন, শুক্রবারের মধ্যে নতুনভাবে ফলপ্রকাশ করা হবে।
এরপরেই অনশন প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। কিন্তু ফলপ্রকাশ হয়নি। এরপরে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে গিয়ে ইন্টারনাল পরীক্ষার খাতা দেখতে চান ২০২৩-’২৫ ব্যাচের পড়ুয়ারা। সেখানে গিয়ে ইন্টারনাল খাতার বান্ডিল খুলে তাঁরা দেখতে পান, তাদের খাতায় কোনও কলমের দাগ নেই। তাহলে নম্বর বসানো হল কী করে! তার জেরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পড়ুয়ারা অন্তর্বর্তী উপাচার্যের কাছে এক্সটারনাল সিমেস্টারের খাতা দেখার দাবিও তুলেছেন। গত শুক্রবার সেই খাতা পরীক্ষার্থীদের দেখানো হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রধান পার্থসারথি চক্রবর্তী, পর্যবেক্ষক তথা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান ইমনকল্যাণ লাহিড়ী, ডিন এবং পড়ুয়াদের দুই প্রতিনিধি। এরপরেই পড়ুয়ারা দুই অধ্যাপককে শোকজ করার দাবি তোলেন।