নিজস্ব প্রতিনিধি: ব্যাঙ্কে নিজের Fixed Deposit ভাঙাতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের(R G Kar Medical College and Hospital) প্রাক্তন অধ্যক্ষ(Former Principal) সন্দীপ ঘোষ(Sandip Ghosh)। ব্যাঙ্ক থেকে ২০ লক্ষ টাকা তুলতে চেয়ে একাধিক স্থায়ী আমানত ভাঙাতে হাইকোর্টে(Calcutta High Court) মামলা দায়ের করেছিলেন তিনি। এদিন অর্থাৎ সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি। এদিন মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভেন্দু সামন্তের এজলাসে। সেই মামলার শুনানির পরেই বিচারপতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI-কে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তিনি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে CBI-কে এই বিষয় একটি রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে নির্দেশও দিয়েছেন। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলেও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন, একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের Semester 2’র পরীক্ষার সময়সূচিতে বদল, নোটিস সংসদের
আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ হওয়ার সুবাদে সন্দীপ ভালো বেতন পেতেন। তারওপর চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে তাঁর আলাদা আয়ও ছিল। বেলেঘাটায় তাঁর প্রাসাদসম বাড়ির পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং-২ ব্লকের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে আছে একটি বিলাসবহুল বাংলো। সেই সঙ্গে কলকাতার কাছে নিউটাউন লাগোয়া হাতিয়ারা নোয়াপাড়ায় রয়েছে একটি ৩ তলা বাড়ি। বেলেঘাটাতে তাঁর একটি আলাদা ফ্ল্যাটও আছে। সেই সঙ্গে আছে ৪ খানি গাড়িও। সেই সন্দীপের আজ এমন দুর্দশা যে, তাঁর পরিবারে রীতিমত আর্থিক সঙ্কট চলছে, আইনজীবীর টাকা দিতে হিমশিম অবস্থা হচ্ছে! শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্কে জমা থাকা ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চান সন্দীপ ঘোষ৷ তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। কেননা আর জি কর কাণ্ডের মূল ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি CBI সেখানকার দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তও করছে। সেই তদন্তেই গ্রেফতার হয়েছেন সন্দীপ।
আরও পড়ুন, কী সর্বনাশ, প্রসূতির পেট কাটার সময়ে কিনা কাঁচিই ভেঙে গেল
আবার, তদন্তের স্বার্থে সন্দীপ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা যাবতীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে তাঁরা। সেই সুবাদেই সন্দীপের অ্যাকাউন্ট থেকে এখন CBI’র অনুমতি ভিন্ন ১ টাকাও কেউ সরাতে পারবে না। এই অবস্থায় সন্দীপ হাইকোর্টকে জানিয়েছিলেন, তিনি জেল বন্দি থাকায় তাঁর সই পাচ্ছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ৷ তাই ২০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট থাকলেও তা ভাঙানো সম্ভব হচ্ছে না৷ প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সন্দীপ ঘোষ৷ যদিও আদালত জানিয়ে দিয়েছে, CBI’র রিপোর্ট না দেখে তাঁরাও এই বিষয়ে এখনই কোনও অনুমতি দিতে পারবেন না। CBI কী রিপোর্ট দিচ্ছে সেটা দেখেই আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে হাইকোর্টের আইনজীবী মহলের ধারনা CBI সন্দীপের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে এখন ওই মোটা অঙ্কের টাকা সরাবার পক্ষে কিছু জানাবে না।