নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং মঙ্গল কামনায় প্রধানত উত্তর ভারতের মহিলারা করওয়া চৌথ(Karwa Chauth) পালন করে থাকেন। তাঁদের দেখাদেখি এখন বাংলার বুকেও বিশেষত বাংলা ধারাবাহিকগুলিতে এই বিশেষ রীতি পালনের প্রচলন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই শুভদিনে রাজস্থানের(Rajasthan) জয়পুরের(Jaipur) বুকে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। এই বিশেষ দিনেও স্বামী ঘনশ্যাম অফিস থেকে দেরি করে বাড়ি ফেরায় অত্যন্ত রেগে ছিলেন স্ত্রী মণিকা। উভয়ের মধ্যে শুরু হয় মনোমালিন্য। কথা কাটাকাটি চরম পর্যায়ে পৌঁছলে স্ত্রী মণিকা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ ‘হাম দো, হামারা দো’ অতীত, দম্পতিদের ১৬ বাচ্চার জন্ম দেওয়ার নিদান মুখ্যমন্ত্রীর
এরপর ঘনশ্যামও স্ত্রীর পিছনে ছুটতে থাকেন এবং বাড়ি ফেরার জন্য তাঁকে অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু মনিকা কোনও কথা না শুনে ট্রেন লাইনের সামনে এসে উপস্থিত হয় এবং চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে(Suicide Case)। মুহূর্তের মধ্যেই মনিকার লাশ টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখে ভিতর থেকে একেবারে ভেঙে পড়েন ঘনশ্যাম। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে এভাবে স্ত্রীর অকালমৃত্যু হবে তা বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি তিনি।
এরপর বাড়ি ফিরে ভাইকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে ঘনশ্যাম লেখেন, ‘ভাই আমি হেরে গেলাম। দুঃখিত! এখন থেকে তোমায় আমার আইডিতে কাজ করতে হবে। আমার স্ত্রী আজ ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’ ভাই যতক্ষণে এই মেসেজটি পায় ততক্ষণে ঘনশ্যাম তাঁর স্ত্রীর একটি শাড়ির সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন হরমাড়া থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে সেগুলি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি, বিস্ফোরক দাবি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির
মর্মান্তিক এই ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে হরমাড়া থানার অফিসার উদয়ভান যাদব জানিয়েছেন, ঘনশ্যাম একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানিতে কাজ করতেন। করওয়া চৌথের দিন স্বামী দেরি করে বাড়ি ফেরায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য তুঙ্গে ওঠে এবং উভয়েই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ঘনশ্যামের ভাইয়ের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে তাঁর ওই চার লাইনের ‘সুইসাইড নোট’ প্রমান হিসেবে সংগ্রহ করেছে পুলিশ।